বিগ ব্যাশ লিগের (বিবিএল) কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) সিদ্ধান্ত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) মালিকদের আকৃষ্ট করেছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজের কাছে ভারতীয় বিনিয়োগকারী ও আইপিএল মালিকদের পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে আইপিএল সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই আগ্রহের কথা স্বীকার করেনি।
সাধারণত আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো দলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আশা করে, যা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া দিতে একেবারেই রাজি নয়। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান মাইক বেয়ার্ড এ বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, "সিএ এবং এর সদস্যরা অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট পরিচালনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক সূচি, খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা, বিগ ব্যাশের বেতন সীমা (স্যালারি ক্যাপ), ব্র্যান্ডিং প্রস্তাব, লাইসেন্স পরিচালনার সংরক্ষিত মূল্য এবং বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন।"
বিশ্বের অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, এসএ২০, আইএলটি২০, সিপিএল এবং এমনকি এমএলসিতেও আইপিএল দলগুলোর সম্পূর্ণ মালিকানা রয়েছে। তবে ইংল্যান্ডের 'দ্য হান্ড্রেড'-এর চিত্র কিছুটা ভিন্ন। সেখানে সান গ্রুপের মালিকানাধীন এসআরএইচ-এর রয়েছে সানরাইজার্স লিডসের শতভাগ শেয়ার। আবার লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের (এলএসজি) মালিক সঞ্জীব গোয়েঙ্কার আরপিএসজি গ্রুপ ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসের ৭০ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছে। অন্যদিকে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের (এমআই) রিলায়েন্স এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের (ডিসি) জিএমআর যথাক্রমে এমআই লন্ডন ও সাউদার্ন ব্র্যাভের ৪৯ শতাংশ শেয়ারের অংশীদার হলেও দল দুটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে তারা।
দিল্লি ক্যাপিটালসের সহ-মালিক জিএমআর গ্রুপ ইতিমধ্যে হ্যাম্পশায়ার কাউন্টির মালিকানা পেয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তারা সিডনি ও ক্রিকেট নিউ সাউথ ওয়েলসে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছিল। এমনকি বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির পঞ্চম টেস্ট চলাকালীন জিএমআর প্রতিনিধিরা সিডনিতে ক্রিকেট নিউ সাউথ ওয়েলসের সাথে সম্ভাব্য অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনাও করেন। তবে ক্রিকেট নিউ সাউথ ওয়েলস এই বেসরকারি বিনিয়োগের ঘোর বিরোধী। এই মতবিরোধের জেরে তারা পরবর্তী মেয়াদে মাইক বেয়ার্ডকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান পদের জন্য মনোনয়ন নাও দিতে পারে।
আইপিএল মালিকরা বিবিএলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মিডিয়া স্বত্ব, খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা, কর ব্যবস্থা এবং যাতায়াতের মতো বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছেন। ইংল্যান্ডের ইসিবি যেমন 'দ্য হান্ড্রেড'-এর সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বন্ধ রাখে, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তেমন কোনো নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও বিবিএল একই সাথে চলায় তারকা ক্রিকেটারদের পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকে। যেমন, ২০১৬ সাল থেকে প্যাট কামিন্স বিবিএলে মাত্র ৭টি ম্যাচ খেললেও একই সময়ে আইপিএলে খেলেছেন ৭৬টি ম্যাচ। বিপরীতে, বিসিসিআই আইপিএলে সব চুক্তিবদ্ধ তারকাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে; ফলে একই সময়ে এমএস ধোনি (১৪৯), বিরাট কোহলি (১৬০), রোহিত শর্মা (১৪১) এবং জাসপ্রিত বুমরাহ (১৪১) খুব কম ম্যাচই মিস করেছেন।
এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা বাংলাদেশের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় করের হার অনেক বেশি। এই দেশগুলোর লিগ বিবিএলের সমসাময়িক হওয়ায় বিদেশি খেলোয়াড়রা বিবিএল এড়িয়ে অন্য লিগে খেলতে পছন্দ করতে পারেন। দীর্ঘ বিমান যাত্রাও আরেকটি বড় সমস্যা; যেমন পার্থে যেতে প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগে, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকায় এক শহর থেকে অন্য শহরের সর্বোচ্চ ভ্রমণ সময় মাত্র দুই ঘণ্টার কিছু বেশি।
অবশ্য বিবিএলের ইতিবাচক দিক হলো এর দলগুলো লাভজনক অবস্থানে রয়েছে। এই লাভের কারণেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে বেসরকারি বিনিয়োগের অনুমোদন নিয়ে কোনো ঐক্যমত্য নেই। পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) এবং বিবিএল ছাড়া বিশ্বের প্রায় সব বড় লিগে পা রাখা আইপিএল মালিকরা এই লাভজনক দিকটি অবশ্যই বিবেচনায় রাখবেন।

