মায়ামিতে গত রবিবার অ্যামাজন প্রাইম এয়ার ফ্লাইট ৭৫৯৮ বিধ্বস্ত হওয়ার আগে এর ককপিটে অতিরিক্ত গতির বিষয়ে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে নতুন ফ্লাইট ডাটা থেকে জানা গেছে। মার্কিন ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) তাদের তদন্তের হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে, এক পাইলট অন্য পাইলটকে বিমানের অত্যধিক গতির বিষয়ে বারবার সতর্ক করলেও এর বিপরীতে কোনো ধারাবাহিক মৌখিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিমানটিতে তখন উচ্চতার অ্যালার্মও বাজছিল।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বোয়িং ৭৬৭-৩০০ বিমানটির অবতরণের গতি ছিল ১৫৮ নটস বা ঘণ্টায় ২৯২ কিলোমিটার, যা বিশেষজ্ঞদের মতে অবতরণের জন্য অত্যন্ত বেশি। দুর্ঘটনার শেষ মুহূর্তে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা সতর্কবার্তা হিসেবে 'সিঙ্ক রেট' এবং মাটি থেকে খুব নিচে থাকার কারণে 'টু লো টেরেইন' সংকেতও শোনা গিয়েছিল।
বিমানটি রানওয়ে অতিক্রম করার সময় বেশ কয়েকটি যানের সঙ্গে ধাক্কা খায় এবং এতে আগুন ধরে যায়। বিমানটি প্রথমে রানওয়ের সরঞ্জাম এবং একটি সাদা ফোর্ড ভ্যানে আঘাত করে, এরপর নিরাপত্তা বেড়া ভেঙে এগিয়ে যায়। সবশেষে একটি টয়োটা করোলা গাড়িতে ধাক্কা খেয়ে রানওয়ে থেকে প্রায় ১,৩০০ ফুট বা ৩৯৪ মিটার দূরে গিয়ে থামে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। নিহতরা ভ্যানের ভেতরে থাকা বিমান পরিষ্কারকারী দলের সদস্য ছিলেন। নিহত ব্যক্তিদের নাম মায়ামি কর্তৃপক্ষ শনাক্ত করেছে। তারা হলেন ৫৩ বছর বয়সী রোলান্দো আলেমান লিওন, ৫৩ বছর বয়সী ইয়োয়েল রদ্রিগেজ নারাঞ্জো, ৭৫ বছর বয়সী জুলিও সি পিনেদা, ৫৩ বছর বয়সী কার্লোস আকোস্তা ফাজার্দো এবং ৪৭ বছর বয়সী হাভিয়েরকিস রেয়েস কুয়েভেদো।
এভিয়েশন অ্যাটর্নি পাবলো রোজাস সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, ফ্লাইট রেকর্ডার ছাড়া পাইলটদের অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা কঠিন। তবে তিনি মনে করেন, এটি একটি 'বিপর্যয়কর অবতরণ' ছিল। রোজাসের মতে, বিমানের ফ্ল্যাপগুলো অনেক দেরিতে ব্যবহার করা হয়েছে, যা হয়তো পাইলটদের অতিরিক্ত গতি সামলানোর চেষ্টারই একটি অংশ ছিল। এনটিএসবি বর্তমানে বিমানের গতি, উচ্চতা এবং ফ্ল্যাপ মোতায়েনসহ দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ খতিয়ে দেখছে।

