লন্ডনে জন্মগ্রহণকারী এবং আমেরিকায় বেড়ে ওঠা অভিনেতা ও পরিচালক অ্যালেক্স উইন্টার সম্প্রতি তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবন, সহ-অভিনেতা কিয়ানু রিভস এবং তাঁর প্রথম চলচ্চিত্রের পরিচালক মাইকেল উইনারকে নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। উইনারকে তিনি তাঁর দেখা সবচেয়ে ‘পণ্ডিত সমাজবিরোধী’ বা ‘সবচেয়ে মার্জিত সোসিওপ্যাথ’ (erudite sociopath) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা তিনি প্রশংসাসূচক অর্থেই ব্যবহার করেছেন।
যুক্তরাজ্যকে এখনও নিজের দ্বিতীয় বাড়ি মনে করেন উইন্টার। লন্ডনে থাকলে হ্যাম্পস্টেড হিথে হাঁটতে তিনি সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে মাইকেল উইনার পরিচালিত ‘ডেথ উইশ ৩’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছিল। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, লন্ডনের ব্রিক্সটনে একটি ক্লাবে তাঁরা রাতে আড্ডা দিতেন, যার মালিক সম্ভবত কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
হলিউড তারকা কিয়ানু রিভসের সাথে উইন্টারের বন্ধুত্ব ও কাজের রসায়ন দীর্ঘদিনের। ‘বিল অ্যান্ড টেড’ চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের অবসরে তাঁরা দুজনে বেস গিটার বাজাতেন। উইন্টার জানান, থিয়েটার ও শেকসপিয়র নিয়ে পড়াশোনা থাকায় তাঁরা ভবিষ্যতে শেকসপিয়রের ‘মেজার ফর মেজার’-এর মতো কোনো ধ্রুপদী নাটকে একসাথে কাজ করতে চান। এছাড়া ‘বিল অ্যান্ড টেড ৪’ নির্মাণের বিষয়ে তিনি ও কিয়ানু অত্যন্ত আগ্রহী। উইন্টার জোর দিয়ে বলেন, তাঁরা খুব অল্প বয়স থেকে এই চরিত্র দুটি ফুটিয়ে তুলেছেন এবং তিনি ছাড়া অন্য কেউ ‘বিল’ চরিত্রে অভিনয় করলে তা বিপর্যয়কর হবে। এই চলচ্চিত্রের কোনো রিবুট বা নতুন করে চরিত্রটি অন্য কাউকে দেওয়া তিনি একেবারেই সমর্থন করেন না।
লাইভ-অ্যাকশন ‘বেন ১০’ পরিচালনার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে উইন্টার জানান, তাঁর প্রিয় এলিয়েন চরিত্র ছিল ‘হিটব্লাস্ট’। এই প্রজেক্টে কাজ করার সময়ই তাঁর স্ত্রীর সাথে পরিচয় হয়, যিনি তখন কার্টুন নেটওয়ার্ক স্টুডিওর দায়িত্বে ছিলেন।
ন্যাপস্টার, ডার্ক ওয়েব, ব্লকচেইন এবং ইউটিউব নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণ করা এই পরিচালক বর্তমান প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) খাতে অতি দ্রুত ও লোভ-ভিত্তিক অগ্রযাত্রাকে তিনি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন। তাঁর মতে, এআই প্রযুক্তির পেছনে থাকা অনেক ব্যক্তিই অসৎ এবং প্রযুক্তি খাতের অলিগার্ক বা একচেটিয়া পুঁজিপতিদের আধিপত্য ব্যবসা, politics ও নাগরিক সংস্কৃতির জন্য হুমকিস্বরূপ। এছাড়া ফ্রাঙ্ক জাপা-কে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্রের কথা উল্লেখ করে তিনি নতুন শ্রোতাদের জন্য জাপার ‘হট র্যাটস’ এবং জীবনের শেষভাগে তৈরি ধ্রুপদী জাজধর্মী অ্যালবাম ‘দ্য ইয়েলো শার্ক’ শোনার পরামর্শ দেন।
‘বিল অ্যান্ড টেড’ সিনেমার টাইম ট্রাভেল বা সময় ভ্রমণের ফোন বুথ বাস্তবে থাকলে তিনি প্রাচীন গ্রিসের ইউরিপিডিস বা এসকাইলাসের সাথে দেখা করতে চাইতেন অথবা শেকসপিয়রের যুগে যেতে চাইতেন। এমনকি জলবায়ু বিপর্যয় কাটিয়ে পৃথিবী কীভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তা দেখতে তিনি ৪০ বা ৫০ বছর পরের ভবিষ্যৎও দেখতে চান। সবশেষে, বাস্তবে কাউকে ‘মেলভিন’ বা ‘ওয়েজি’ (প্যান্ট টেনে হেনস্তা করা) করার সুযোগ থাকলে তিনি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ককে বেছে নেবেন বলে রসিকতা করেন।

