কলেজ ফুটবল প্লে-অফ (সিএফপি) নির্বাচনের মানদণ্ড নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন আলাবামার সাবেক প্রধান কোচ নিক সাবান। তার মতে, কেবল জয়ের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে দল নির্বাচন করা ঠিক নয়; বরং প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা বিবেচনা করা উচিত। টেক্সাসের অস্টিনে ২ নম্বর ওহাইও স্টেট এবং ৪ নম্বর টেক্সাসের মধ্যকার ম্যাচের আগে ইএসপিএন-এর ‘কলেজ গেমডে’ অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় সাবান এই সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান পদ্ধতিতে দলগুলোর কেবল জয়ের সংখ্যার ওপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া হচ্ছে, যা প্রতিপক্ষের মান সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়।
সাবান বলেন, “আমার মনে হয় আমরা এখন এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছি যেখানে আপনি কতগুলো ম্যাচ জিতলেন তা আপনাকে প্লে-অফে যেতে সাহায্য করে এবং প্লে-অফই হয়ে ওঠে একটি প্রোগ্রামের সাফল্যের পরিমাপক।” তিনি আরও যুক্তি দেন যে, এই ব্যবস্থার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অ্যাথলেটিক বিভাগ সেপ্টেম্বর মাসে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নন-কনফারেন্স ম্যাচ নির্ধারণ করতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে।
ভালো জয় এবং ভালো হারের মূল্যায়নের জন্য আরও উন্নত মানদণ্ডের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “কিছু কিছু হার কিছু জয়ের চেয়েও ভালো।” উদাহরণ হিসেবে তিনি গত বছরের টেক্সাসের নন-কনফারেন্স ম্যাচের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। ওহাইও স্টেটের কাছে টেক্সাসের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হারের কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, টেক্সাস স্টেটের মতো দুর্বল দলের বিরুদ্ধে বড় জয়ের চেয়ে ওহাইও স্টেটের কাছে হার কি বেশি মূল্যবান নয়? সিএফপি কমিটির উচিত এমন একটি সূচক ব্যবহার করা যা এই বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন করতে পারে, যাতে সেরা দলগুলোই প্লে-অফে সুযোগ পায়।
সিএফপি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সাবানের এমন সমালোচনা এবারই প্রথম নয়। ২০২৪ সালে ‘প্যাট ম্যাকঅ্যাফি শো’-তে অংশ নিয়ে তিনি কলেজ বাস্কেটবল ও বেসবলে ব্যবহৃত ‘রেটিং পার্সেন্টেজ ইনডেক্স’ (আরপিআই) পদ্ধতি কলেজ ফুটবলেও চালুর পরামর্শ দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, দলগুলোর খেলার সময়সূচির শক্তিমত্তা (স্ট্রেন্থ অব শিডিউল) যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। তিনি যোগ করেন, “এটি কেবল ‘আমি অপরাজিত’ বা ‘আমি একটি ম্যাচে হেরেছি’ এমন হওয়া উচিত নয়। বরং দেখতে হবে আপনি কার কাছে হেরেছেন, কার বিরুদ্ধে খেলেছেন এবং কাকে হারিয়েছেন।”
তবে সাবানের এই মন্তব্যের পর ভক্তদের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনা এসেছে। অনেকেই তার এই বক্তব্যের পেছনে সাউথইস্টার্ন কনফারেন্স (এসইসি) দলগুলোর প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখছেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে জর্জিয়ার শিরোপা জয়ের পর থেকে কোনো এসইসি দল আর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জিততে পারেনি।

