জ্যামাইকা কিংসমেনকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) ২০২৬ আসরের শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনস। ফাইনালে ৮ উইকেটের দাপুটে জয়ে প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টটির ট্রফি ঘরে তুলল দলটি। জ্যামাইকার দেওয়া ১৭১ রানের লক্ষ্য ২০ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় ফ্যালকনস।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৭০ রান সংগ্রহ করে জ্যামাইকা কিংসমেন। দলের হয়ে একাই লড়াই করেন পাকিস্তানি তরুণ ব্যাটার মাআজ সাদাকাত। মাত্র ২১ বছর বয়সে এলিমিনেটর ম্যাচে ১১২ রানের ইনিংস খেলে সিপিএল ইতিহাসের কনিষ্ঠতম সেঞ্চুরিয়ান হওয়া সাদাকাত ফাইনালেও জ্বলে ওঠেন। এবার তিনি খেলেন ৫৮ বলে ১১৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। তবে দলের বাকি ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি কিংসমেন। দলের তিনজন ব্যাটার শূন্য রানে আউট হন এবং চারজন একক অঙ্কের ঘরেই সাজঘরে ফেরেন।
বল হাতে ফ্যালকনসের জয়ের নায়ক ছিলেন আরেক পাকিস্তানি বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার সুফিয়ান মুকিম। প্রথম কোয়ালিফায়ারে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ১৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দলকে ফাইনালে তোলা মুকিম এদিনও মাত্র ১৪ রান দিয়ে শিকার করেন ৪টি উইকেট। পাওয়ারপ্লেতে জেডেন সিলস ও আলজারি জোসেফ দুটি উইকেট তুলে নিয়ে শুরুতেই জ্যামাইকাকে চাপে ফেলেন। এরপর সাদাকাত ও সাইম আইয়ুব (২৯) তৃতীয় উইকেটে ৪৬ বলে ৮০ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। ১০ ওভার শেষে জ্যামাইকার সংগ্রহ ছিল ৯৭/২।
কিন্তু মাঝের ওভারে মুকিমের স্পিন জাদুতে ধসে পড়ে জ্যামাইকার মিডল অর্ডার। এক ওভারেই সাইম আইয়ুব ও রভম্যান পাওয়েলকে ফিরিয়ে ধস নামান তিনি। এরপর শাদাব খান রোমাইন মরিসকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন এবং মুকিম তার পরের ওভারে হাসান খানকে আউট করেন। মাত্র তিন ওভারের ব্যবধানে ১০৮/২ থেকে জ্যামাইকার স্কোর দাঁড়ায় ১১৩/৬। শেষদিকে কিমো পলকে আউট করে নিজের ৪ উইকেটের কোটা পূর্ণ করেন মুকিম। আন্দ্রে রাসেল ও সাদাকাতের ৩২ রানের জুটির কল্যাণে কোনোমতে দেড়শ পার করে ১৭০ পর্যন্ত পৌঁছায় জ্যামাইকা।
১৭১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলেন ফ্যালকনসের ওপেনাররা। সাইম আইয়ুবের এক ওভারেই এভিন লুইস দুটি ছক্কা ও একটি চার মেরে পাওয়ারপ্লেতে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন। পাওয়ারপ্লে শেষে ফ্যালকনসের স্কোর দাঁড়ায় ৭৬/১। লুইস ৩৮ রান করে ভিটেল লসের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে গেলেও আমির জাঙ্গু ও হাসান নওয়াজ দলের জয় নিশ্চিত করেন। জাঙ্গু ও লুইসের জুটিতে আসে ৪০ বলে ৬৪ রান। এরপর জাঙ্গু ও নওয়াজ মিলে ৫৪ বলে যোগ করেন অবিচ্ছিন্ন ৮৯ রান।
জ্যামাইকার বোলারদের মধ্যে ভিটেল লস ও কিমো পল কিছুটা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও বাঁহাতি স্পিনার হাসান খানের ওপর চড়াও হন জাঙ্গু ও নওয়াজ। এর মধ্যে ১৪তম ওভারে মাত্র এক বল করার পর ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়েন হুনেইন, যা পাওয়েলের দলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। ১৫তম ওভারে লসের ওপর চড়াও হয়ে ম্যাচ সহজ করে তোলেন জাঙ্গু। শেষ পর্যন্ত ১৭তম ওভারে পাওয়েলকে টানা দুটি ছক্কা মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন নওয়াজ। আমির জাঙ্গু ৫৭ ও হাসান নওয়াজ ৪৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

