হংকংয়ের ১৬ বছর বয়সী কিশোরী লুনা ওং যখন তার বাবা-মায়ের স্বপ্ন নিয়ে ইংল্যান্ডে পড়তে গিয়েছিল, তখন তারা আশা করেছিলেন এটি তার মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য একটি নতুন শুরু হবে। কিন্তু মাত্র ১০ মাসের ব্যবধানে সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। হংকংয়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কোভিড লকডাউনের সময় থেকেই লুনার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছিল। বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের জন্য তাকে বিভিন্ন ওষুধ সেবন করতে হতো, যা তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।
লুনার বাবা থমাস ওং এবং মা হিল্ডা লিওং তাকে যুক্তরাজ্যের শ্রেপশায়ারের রিকিন কলেজে ভর্তি করান। তারা মনে করেছিলেন, সুন্দর পরিবেশ ও পড়াশোনার সুযোগ লুনার জীবন বদলে দেবে। তবে বোর্ডিং স্কুলে মানিয়ে নেওয়া লুনার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। জুলাই ২০২৩ সালে লন্ডনে একটি সামার স্কুল প্রোগ্রামে থাকাকালীন লুনার আত্মহত্যার ঘটনাটি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে আসে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যে ‘এডুকেশন গার্ডিয়ান’ বা অভিভাবক নিয়োগ বাধ্যতামূলক, যারা মূলত শিক্ষার্থীদের দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করেন। লুনার পরিবারের অভিযোগ, তারা এই গার্ডিয়ানের ওপর ভরসা করেছিলেন কিন্তু তিনি লুনার মানসিক সংকটের বিষয়টি তাদের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরেননি। এমনকি লুনার আত্মহত্যার প্রবণতা বা তার সমস্যার কথাগুলোও আড়াল করা হয়েছিল।
ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে যে, গার্ডিয়ান এবং সামার স্কুল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব ছিল। লুনার ওষুধ সেবনের বিষয়টি তদারকি করার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় তিনি নিজেই তা নিয়ন্ত্রণ করছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। লুনার বাবা-মা এখন প্রশ্ন তুলছেন, কেন তাদের মেয়েকে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা বা সহায়তা দেওয়া হলো না।
লুনার মৃত্যুর পর একটি সেফগার্ডিং পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দেখভালের ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতার অভাব রয়েছে। গার্ডিয়ানদের জন্য কোনো বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের নিয়ম নেই। লুনার মৃত্যু এখন যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের দাবিকে জোরালো করেছে, যা এখনো সরকারিভাবে কার্যকর করা হয়নি।

