যুক্তরাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমান ঘাঁটির কাছে পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পেছনে মার্কিন ও ব্রিটিশ নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ সহযোগিতা ছিল বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার ইলিনয়ে একটি গলফ টুর্নামেন্টে যোগ দিতে এসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, মার্কিন কর্তৃপক্ষ ও ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে এই গ্রেফতার অভিযান সম্পন্ন করেছে।
গ্রেফতারকৃতদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, "তারা আমাদের বন্দরগুলোর ব্যাপক ক্ষতি করার পরিকল্পনা করছিল।" তিনি যুক্তরাজ্যের এই অভিযানকে "চমৎকার" বলে অভিহিত করেন এবং জানান যে মার্কিন গোয়েন্দারা দীর্ঘ সময় ধরে এই সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল।
এই গ্রেফতার অভিযানের পর ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ বিমান ঘাঁটির সংলগ্ন ওয়েলফোর্ড এলাকার একটি গ্রামে 'গুরুতর পরিস্থিতি' (মেজর ইনসিডেন্ট) ঘোষণা করে। নিরাপত্তার স্বার্থে সেখান থেকে ৮৫টি পরিবারের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, বিস্ফোরক আইনের আওতায় সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারের পর এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিস্ফোরক আইনের অধীনে কয়েকজন ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর ওয়েলফোর্ড এলাকায় বেশ কিছু বাড়ি খালি করা হচ্ছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর বিশেষ বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল সন্দেহভাজনদের ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি যানবাহন পরীক্ষা করে দেখছে। যুক্তরাজ্যের কাউন্টার টেররিজম পুলিশিং নিশ্চিত করেছে যে, সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে এই ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমান ঘাঁটিটি মার্কিন বিমান বাহিনীর কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হয়। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিশনে এই ঘাঁটিটি সহায়তা দিয়ে আসছে। এর আগে গত জুলাই মাসে ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডের পক্ষ থেকে ফেয়ারফোর্ড থেকে পরিচালিত মার্কিন বোমারু বিমানগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেই হুমকির পর ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী ঘাঁটিটির নিরাপত্তা জোরদার করে এবং যেকোনো হামলা প্রতিহত করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানায়।

