ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান অভিযোগ করেছেন যে, কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ানো হয়েছে। সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, বাজারে কারসাজির মাধ্যমে সংকট সৃষ্টি করা হলেও সরকার তা নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, বরং উল্টো দাম বাড়িয়ে দুর্বৃত্তদের স্বার্থ রক্ষা করছে।
গাজী আতাউর রহমান জানান, কৃত্রিম সরবরাহ সংকটের সুযোগ নিয়ে রোববার সন্ধ্যা থেকে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে সিলিন্ডারটির নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। অথচ গত মাসেও একই পরিমাণ এলপিজির দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২৫৩ টাকায়।
তিনি এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা তুলে ধরে বলেন, ফেব্রুয়ারিতে ১০৩ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল। এরপর যুদ্ধ শুরুর পর এপ্রিল মাসে দুই দফায় ৫৯৯ টাকা দাম বেড়েছে। পরবর্তীতে জুন ও জুলাইয়ে প্রায় ৪০০ টাকা কমানো হলেও আগস্টে আবার ৭০ টাকা বাড়ানো হয়। সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমানোর পর এবার একবারে ২৫২ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা দাবি করেন, এলপিজি সরবরাহের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে দেশে প্রকৃতপক্ষে গ্যাসের কোনো ঘাটতি ছিল না। বরং বাজারে কারসাজির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সরকারের দায়িত্ব ছিল কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, কিন্তু তা না করে তাদের চাহিদা অনুযায়ী এলপিজির দাম বাড়ানো হয়েছে।
দেশের প্রায় এক কোটি মানুষ রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। দুর্বৃত্তদের স্বার্থে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিশেষে, তিনি বাজারে সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবিলম্বে এলপিজির বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

