কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ৬ অক্টোবর ঘোষণা করেছে যে, তারা তাদের যৌন নির্যাতন বিষয়ক নীতি ও কর্মপদ্ধতি পর্যালোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল স্যাঁলি ইয়েটসকে দায়িত্ব দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীর দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছিলেন যে তিনি কর্নলের একটি ফ্র্যাটার্নটির সদস্যদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েটস তার পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ২০২৪ সালে ‘জেন ডো’ ছদ্মনামে পরিচিত ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে পদক্ষেপ নিয়েছিল, তাও খতিয়ে দেখবেন।
কর্নলের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের বিশেষ কমিটির চেয়ার অ্যান মেইনিগ স্মলিং এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা অন্যদের কাছ থেকে যে কঠোরতা আশা করি, কর্নলকেও যেন সেই একই কঠোরতার সাথে নিজেদের যাচাই করার সদিচ্ছা থাকে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। আমরা কেবল ২০২৪ সালে কী ঘটেছিল তা জানতে চাই না, বরং যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে এবং অভিযোগকারীদের সহায়তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কর্নল কীভাবে নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করতে পারে, তা বুঝতে চাই।”
স্যাঁলি ইয়েটস সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কয়েক দিনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবেও কাজ করেছিলেন, কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কিছু দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার নির্বাহী আদেশ পালনে অস্বীকৃতি জানানোর পর তাকে বরখাস্ত করা হয়।
মামলাকারী জেন ডো অভিযোগ করেছিলেন যে, ২০২৪ সালে চি ফাই ফ্র্যাটার্নটির সাত সদস্য তাকে যৌন নির্যাতন করেছেন। টম্পকিন্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন জানান, পুলিশের কাছে জেন ডো-এর দেওয়া জবানবন্দি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের পর্যাপ্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। তবে গত মাসে মামলা দায়েরের পর তিনি বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তদন্তে ওই সাত ফ্র্যাটার্নটি সদস্যই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
এদিকে, নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হচুল এই ঘটনায় তদন্তের জন্য রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসকে নিযুক্ত করেছেন।
