ব্রাজিলের সরকার জানিয়েছে, দেশটির আমাজন রেইনফরেস্ট এবং সাভানা অঞ্চলে বন উজাড়ের হার রেকর্ড পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এই তথ্য সামনে এল, যেখানে রেইনফরেস্টের ভবিষ্যৎ একটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু।
বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা তিন বছর আগে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ২০৩০ সালের মধ্যে আমাজনে বন উজাড় শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার পূর্বসূরি ডানপন্থী জাইর বলসোনারোর শাসনামলে বন উজাড়ের হার ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। এবারের নির্বাচনে লুলা লড়বেন বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, লড়াইটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে। ফ্লাভিও তার বাবার নীতিগুলোই বজায় রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে তিনি আমাজনে সংগঠিত অপরাধ দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
স্যাটেলাইট ডেটা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এক বছরে আমাজনে বন উজাড়ের হার ৪১.৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা ১৯৮৮ সালে রেকর্ড রাখা শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড় পতন। একই সময়ে ব্রাজিলের সাভানা অঞ্চল, যা সেরাদো নামে পরিচিত, সেখানে বন উজাড়ের হার কমেছে ২৩.৮ শতাংশ। বিশ্বের বৃহত্তম রেইনফরেস্ট আমাজনের ৬০ শতাংশ ব্রাজিলের ভেতরে অবস্থিত এবং এটি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।
২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত জাইর বলসোনারোর শাসনামলে আমাজনের বনভূমি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গিয়েছিল। সে সময় খনি খনন ও বনভূমি পরিষ্কারের কাজকে উৎসাহিত করা হয়েছিল এবং বন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এএফপি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বলসোনারোর মেয়াদে আগের চার বছরের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি বনভূমি হারিয়েছিল আমাজন।
লুলা ক্ষমতায় আসার পর সেই নীতিগুলো উল্টে দেন এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অবৈধ লগিংয়ের জন্য শাস্তির বিধান কঠোর করেন। ক্ষমতায় আসার প্রথম বছরেই তিনি বন উজাড়ের হার ছয় বছরের সর্বনিম্নে নামিয়ে আনেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লুলা লিখেছেন, "আমাদের লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে অবৈধভাবে বন উজাড় শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা।"
আমাজনের মতো গ্রীষ্মমন্ডলীয় রেইনফরেস্ট লক্ষ লক্ষ প্রজাতির আবাসস্থল। সুস্থ অবস্থায় এগুলো বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে পৃথিবীকে শীতল রাখতে সহায়তা করে। তবে কয়েক দশক ধরে কৃষি ও লগিংয়ের জন্য ভূমি পরিষ্কার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট দাবানলের কারণে এগুলো চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
ব্রাজিলের পরিবেশমন্ত্রী জোয়াও পাওলো কাপোবিয়ানকো এই পতনকে "অবিশ্বাস্য রকমের" বলে অভিহিত করেছেন। ক্লাইমেট অ্যাডভোকেসি গ্রুপ 'অবজারভেটরিও দো ক্লিমা'-এর নির্বাহী সচিব মার্সিও আস্ত্রিনি একে ব্রাজিলের জন্য একটি "ঐতিহাসিক অর্জন" বলে আখ্যায়িত করেছেন। আস্ত্রিনি বলেন, এটি প্রমাণ করে যে "রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে বন উজাড় এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।"

