মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সঙ্গে চার বছর ধরে চলা সংঘাত অবসানে আগ্রহী নন। ট্রাম্প জানান, রাশিয়ার ওপর নতুন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরোপ থেকে তিনি বিরত থাকছেন, যাতে চলমান শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া ব্যাহত না হয়।
নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লেখেন, রাশিয়ার বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি বর্তমানে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে একটি সমঝোতার জন্য কাজ করছেন এবং জিম্মি বিনিময়সহ বিভিন্ন বিষয়ে বেশ ভালো অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেন। রাশিয়ার ওপর নতুন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ট্রাম্প বলেন, তিনি এমন কিছু করতে চান না যা রাশিয়াকে আলোচনার টেবিল থেকে দূরে সরিয়ে দেবে। তবে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জেলেনস্কির তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইউরোপ থেকে আসা বিপুল আর্থিক সহায়তা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে শান্তি আলোচনার পথ থেকে বিচ্যুত করেছে। তিনি বলেন, জেলেনস্কি এই যুদ্ধ শেষ করতে চান না এবং সম্ভবত শুরু থেকেই তার এমন কোনো ইচ্ছা ছিল না। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, তিনি নিজে এই যুদ্ধের অবসান চান।
এছাড়া জ্বালানি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে ট্রাম্প জানান, ইরানকে রাশিয়ার সহায়তা সীমিত রাখার বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সাথে দেখছেন এবং এটি বজায় রাখতে চান। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার মতে, এই ধরনের হামলা বিশ্ব ডিজেল বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং আমেরিকান কৃষক ও পরিবহন ব্যবসায়ীদের জন্য জ্বালানি ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে, অথচ রাশিয়া নিয়মিত ছাড়ে ডিজেল রপ্তানি করছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পাল্টা যুক্তি দিয়ে আসছেন যে, রাশিয়ার ওপর চাপ কমানো হলে তা তাদের আগ্রাসনকে আরও উৎসাহিত করবে। তাই রাশিয়ার বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর আক্রমণের জবাবে তেল শোধনাগারে হামলা চালানোকে তিনি প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন।

