কঙ্গোর উত্তর অঞ্চলে ইবোলা প্রাদুর্ভাব অষ্টম প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে বলে রবিবার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে দ্রুততম সময়ে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসের গতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ। নর্ড-উবাঙ্গি প্রদেশে নতুন করে দুইজনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত ওই দুই ব্যক্তিই বিশোর্ধ্ব পুরুষ এবং তারা ওয়াপিন্ডা স্বাস্থ্য জোনের বাসিন্দা। এই জোনটি বাস-উয়েলে প্রদেশের সীমান্তবর্তী, যেখানে আগে থেকেই ইবোলার উপস্থিতি ছিল।
মধ্য মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯,৪০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৪,৫০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এটি কঙ্গোর ইতিহাসে ইবোলার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব। ভাইরাসটি পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে; উগান্ডা বর্তমানে ইবোলামুক্ত ঘোষণা করা হলেও কেনিয়াতে গত শনিবার সপ্তম আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। তবে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত রোগী পাওয়া যায়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আফ্রিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক মোহাম্মদ ইয়াকুব জানাবি জানিয়েছেন, যদিও কিছু এলাকায় ইবোলার প্রকোপ কমছে, কিন্তু ভৌগোলিকভাবে এটি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। তিনি বলেন, সংক্রমিত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা নিতে রাজি করানো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসার আগেই আক্রান্তরা মারা যাচ্ছেন। হাউত-উয়েলে প্রদেশের ওয়াম্বা স্বাস্থ্য জোনের মহামারি বিশেষজ্ঞ সার্জ এনগালেবাতো জানান, মানুষ হাসপাতালের ভয়ে আসতে চায় না বলে সেখানে নিয়মিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হচ্ছে।
নর্ড-উবাঙ্গি প্রদেশটি সুদ-উবাঙ্গি ও বাস-উয়েলের মাঝে অবস্থিত। মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র সংঘাতের কারণে হাজার হাজার মানুষ পালিয়ে এসে কঙ্গোর এই সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া খারাপ রাস্তা এবং সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এই অঞ্চলে স্বাস্থ্যকর্মীদের পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইবোলার কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত ইতুরিতে এখনো আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা মোট আক্রান্তের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে মোট ৬৬টি স্বাস্থ্য জোন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভাইরাসের বিস্তার রোধে নর্থ কিভু প্রদেশের কর্তৃপক্ষ সোমবার থেকে ইতু থেকে আসা মানুষের ওপর এক সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ দুইজন এবং গাড়িতে চারজনের বেশি যাত্রী বহন নিষিদ্ধসহ বড় ধরনের জনসমাগম, স্পোর্টস ইভেন্ট, নাইটক্লাব এবং রাজনৈতিক সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। এই প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বিরল বুন্দিবুগিও ভাইরাস, যার কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা চিকিৎসা নেই। জনবসতির স্থানান্তর, বিদ্রোহী সহিংসতা, অবিশ্বাস এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজের প্রতিকূল পরিবেশই এই ভাইরাসের বিস্তারে প্রধান ভূমিকা রাখছে।
ওয়াম্বা স্বাস্থ্য জোনে শুরুতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রতিরোধ থাকলেও পরবর্তীতে তারা পরিস্থিতি বুঝতে শুরু করেছে এবং আক্রান্তদের তথ্য প্রদান করছে। এনগালেবাতো বলেন, ইবোলা একটি কমিউনিটি বা সামাজিক রোগ। স্থানীয়দের সহযোগিতা ছাড়া এটি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে খনি এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চলাচলের প্রবণতা বেশি হওয়ায় সেখানে মৃত্যুর হারও বেশি দেখা যাচ্ছে।

