রাজধানীর দুটি পৃথক স্থান থেকে এক বৃদ্ধ ও অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে রামপুরা ব্রিজসংলগ্ন সুইসগেট এলাকার পানি থেকে আলম মুন্সি (৭৪) নামের ওই বৃদ্ধের ভাসমান লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অপরদিকে, একই দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের বারান্দা থেকে আনুমানিক ২৩ বছর বয়সী এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে দুই ঘটনার কোনোটিতেই তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা সুইসগেটে এক ব্যক্তির লাশ পানিতে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা খবর দিলে রামপুরা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তা উদ্ধার করে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সন্ধ্যায় লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির সহায়তায় ওই বৃদ্ধের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং তার স্বজনদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। নিহত আলম মুন্সির বাড়ি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ী গ্রামের মুন্সিবাড়িতে। তিনি ঢাকায় ভবঘুরে হিসেবে বসবাস করছিলেন। এসআই সাইফুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে বার্ধক্যজনিত কারণে অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট জানা যাবে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগের ৬০২ নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দায় এক যুবককে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি নজরে এলে ভবনের ওয়ার্ড মাস্টার রিয়াজ তাকে উদ্ধার করে দ্রুত জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওয়ার্ড মাস্টার রিয়াজ জানান, কে বা কারা ওই যুবককে ওয়ার্ডে রেখে গেছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, এমনকি তিনি সেখানে ভর্তি ছিলেন কি না তাও নিশ্চিত নয়। তাকে দেখে ভবঘুরে বলেই মনে হয়েছে।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মৃত ওই যুবকের নাম-পরিচয় জানা যায়নি এবং তার কোনো স্বজনের সন্ধান পাওয়া সম্ভব হয়নি। যুবকের লাশটি ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুরো বিষয়টি শাহবাগ থানাকে জানানো হয়েছে।

