যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী কংগ্রেসনাল নির্বাচনকে সামনে রেখে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সাবেক নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ তাদের প্রচারণায় বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় করছেন। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের জন্য ডেমোক্র্যাটরা মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং ৪৭০টি আসনের ভাগ্য নির্ধারণ হবে এই নির্বাচনে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি রিপাবলিকান প্রচারণার জন্য ৩০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছেন। এক সামাজিক যোগাযোগ বার্তায় ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনের দিন পর্যন্ত তিনি ৪০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করবেন বা করার পরিকল্পনা রেখেছেন। এর মধ্যে ৩০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ইতিমধ্যে বিজ্ঞাপন, ভোটারদের সাথে সরাসরি ও পরোক্ষ যোগাযোগ, সমাবেশ, র্যালি এরিনা, টেলি-র্যালি, ভোটদান কর্মসূচি এবং নির্বাচন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মতো খাতে খরচ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাইকেল ব্লুমবার্গ সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে ডেমোক্র্যাটদের সহায়তায় প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছেন। ব্লুমবার্গের টিমের ভাষ্যমতে, এর মধ্যে কমপক্ষে ৫০ মিলিয়ন ডলার হাউজ নির্বাচনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে ২৪ মিলিয়ন ডলার ব্লুমবার্গের সহ-প্রতিষ্ঠিত 'এভরিটাউন ফর গান সেফটি' নামক একটি সংগঠনের জন্য এবং ১৬ মিলিয়ন ডলার হাউজ মেজরিটি প্যাকের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ব্লুমবার্গের কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ট্রাম্প সোমবার কানসাসে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। এরপর তিনি ক্যারোলিনা, আইওয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া এবং মিশিগানে সাতটি রাজ্যের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন। এই রাজ্যগুলোতে তিনি ২০২৪ সালে জয়ী হলেও মিশিগান, জর্জিয়া এবং নর্থ ক্যারোলিনায় জয়ের ব্যবধান ছিল অত্যন্ত কম। ট্রাম্পের এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো তার অনুগত সমর্থকদের উদ্বুদ্ধ করা।
প্রচারণার অংশ হিসেবে ট্রাম্প মার্কিন কৃষি বিভাগের মাধ্যমে ৮ বিলিয়ন ডলারের একটি 'হারভেস্ট ফুয়েল রিলিফ প্রোগ্রাম' চালুর ঘোষণা দিয়েছেন, যা ফসল কাটার মৌসুমে কৃষকদের ডিজেলের খরচ কমাতে সহায়তা করবে। এছাড়া তিনি রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫,০০০ ডলারের চেক দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন, যদিও অর্থনীতিবিদ ও কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এই প্রস্তাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। এর আগে তিনি মেডিকেয়ারের আওতায় থাকা ২০ মিলিয়নেরও বেশি বয়স্ক আমেরিকানকে ৯০ ডলারের এককালীন অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বর্তমানে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের ফলে জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কিছুটা নিম্নমুখী রয়েছে।

