রাশিয়ার কারাগারে চার বছরেরও বেশি সময় বন্দি থাকা মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে নিয়মিত মারধর ও অপমান করা হতো বলে জানিয়েছেন তার সাথে থাকা সাবেক ইউক্রেনীয় বন্দিরা। দিমিত্রো খিলিউক নামের এক সাবেক বন্দি জানিয়েছেন, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার ইউক্রেন সীমান্ত সংলগ্ন ব্রায়ানস্কের নভোজিবকভ কারাগারে হাবার্ডের সাথে তার প্রথম দেখা হয়। তিনি বলেন, কারারক্ষীরা নিয়মিত পরিদর্শনের সময় হাবার্ডকে নিয়ে উপহাস করত এবং গালিগালাজ করত। তারা প্রথম থেকেই তাকে হুমকি দিত এবং নানাভাবে হেনস্তা করত।
ইহর শাইশকো নামের আরেক সাবেক বন্দি জানান, হাবার্ড মার্কিন নাগরিক হওয়ায় তাকে আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হতো। তাকে রুশ ভাষা শিখতে, জাতীয় সঙ্গীত গাইতে এবং কারাবিধি মুখস্থ করতে বাধ্য করা হতো, যা তার পক্ষে পড়া সম্ভব ছিল না। শাইশকো অভিযোগ করেন, তিনি নিজে হাবার্ডকে কারারক্ষীদের হাতে মারধর ও স্টান গান দিয়ে ইলেকট্রিক শক খেতে দেখেছেন। হাবার্ডকে পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হতো না এবং হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যে রাখা হতো। শাইশকো আরও অভিযোগ করেন যে, কারারক্ষীদের বিনোদনের জন্য হাবার্ডকে যৌন হেনস্তা ও অপমানের শিকার হতে হয়েছে।
২০২২ সালের এপ্রিলে ইজিয়াম শহর থেকে হাবার্ডকে আটক করা হয়, যেখানে তিনি তার ইউক্রেনীয় সঙ্গীর সাথে বসবাস করতেন। ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীতে কাজ করার অভিযোগে মস্কোর একটি আদালতে তাকে ছয় বছর ১০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। হাবার্ডের পরিবারও তার নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিল, যা এখন সাবেক বন্দিদের বর্ণনায় নতুন করে উঠে এসেছে।
কারাগারে হাবার্ডের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে তাকে রেড ক্রসের পরিদর্শকদের কাছ থেকে আড়াল করে রাখা হতো বলে খিলিউক জানিয়েছেন। খিলিউক বলেন, নভোজিবকভ কারাগারের পরিবেশ অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল, বিশেষ করে শীতকালে সেখানে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা থাকত। পরবর্তীতে পাকিনো কারাগারে স্থানান্তরের পর হাবার্ডের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়ে। শাইশকো জানান, হাবার্ডের হাঁটু ও পায়ের ক্ষতগুলো পচে গিয়েছিল এবং তিনি নিজে হাবার্ডের ক্ষতের ব্যান্ডেজ করে দিতেন কারণ ডাক্তাররা তা করতে চাইতেন না। হাবার্ড তখন এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন যে তিনি প্রায় নড়াচড়া করতে পারতেন না।
বন্দিদের ওপর কুকুর লেলিয়ে দেওয়া, ক্ষুধার্ত রাখা এবং স্ট্রেস পজিশনে দাঁড় করিয়ে রাখার মতো কঠোর নিয়ম সেখানে ছিল। খিলিউক জানান, ২০২৪ সালে হাবার্ডকে কারাগার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তিনি ধারণা করেছিলেন তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। খিলিউক নিজে ২০২৫ সালের আগস্টে বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে ইউক্রেনে ফিরে আসেন। তিনি রাশিয়ার বন্দিদশাকে সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্টালিনের আমলের সাথে তুলনা করে একে একটি 'নির্যাতন যন্ত্র' হিসেবে অভিহিত করেন।
চার বছর আট মাস কারাভোগের পর মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সাথে ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের দিন হাবার্ড মুক্তি পান। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, মুক্তির এক সপ্তাহ আগে তিনি পুতিনের কাছে হাবার্ডকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। খিলিউক এই মুক্তিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভোটের রাজনীতির সাথে তুলনা করলেও হাবার্ডের মুক্তির খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। শাইশকো আশা প্রকাশ করেন যে, একদিন তাদের ওপর নির্যাতনকারীরা বিচারের মুখোমুখি হবে।

