যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র ১০ দিন বাকি। ৩ নভেম্বরের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টি সিনেটের বেশ কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন ধরে রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। অন্যদিকে, জাতীয় জনমত জরিপে এগিয়ে থাকায় ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। রিয়েল ক্লিয়ার পলিটিক্স-এর সাম্প্রতিক জাতীয় গড় জরিপ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা ৫০.৫ শতাংশ এবং রিপাবলিকানরা ৪২.৪ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছে। এছাড়া নিউ ইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা এবং সিএনএন-এর জরিপে যথাক্রমে ১১ ও ১০ শতাংশ ব্যবধানে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছে। এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় যে রিপাবলিকানরা একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, যদিও এটি প্রতিটি অঙ্গরাজ্য বা জেলার নির্বাচনী ফলাফল নির্ধারণ করে না।
হ্যামলাইন ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আইন অধ্যয়নের অধ্যাপক ডেভিড শুলজ মনে করেন, মূল পরীক্ষা হলো ডেমোক্র্যাটরা ভোটারদের অসন্তোষকে বাস্তবসম্মত সমাধানের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে কি না। শুলজ জানান, ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীরা ট্রাম্পের বিরোধিতার পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয়, যুদ্ধবিরোধী অবস্থান এবং স্থানীয় ভোটারদের প্রাসঙ্গিক সমস্যাগুলো তুলে ধরছেন। এই কৌশল রিপাবলিকান অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও প্রভাব ফেলতে পারে। মার্কিন নাগরিকরা এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ জন সদস্য এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনের জন্য ভোট দেবেন। এই ফলাফল নির্ধারণ করবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি দুই বছরে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না।
শুলজ ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। পলিটিক্স+ জরিপ অনুযায়ী, সেখানে ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম হ্যামিল্টন রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের চেয়ে ০.৮ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়া আইওয়া অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান অ্যাশলি হিনসন ডেমোক্র্যাট জশ টুরেক থেকে মাত্র ০.১ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। শুলজের মতে, ক্যানসাসের ফলাফল বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ হতে পারে, কারণ অতীতে এই অঙ্গরাজ্যটি ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়নি। তিনি আরও জানান, টেক্সাস এবং ওহাইওর মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতেও পরিস্থিতি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে। আলাস্কায় ডেমোক্র্যাট মেরি পেল্টোলা রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের চেয়ে ১.৮ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন, অন্যদিকে নর্থ ক্যারোলিনায় রয় কুপার রিপাবলিকান মাইকেল হোয়াইটলির চেয়ে ১০.৩ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন, যা ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় সুযোগ।
সিনেট নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়ের পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের আসনগুলোও রক্ষা করতে হবে। মিশিগানে আব্দুল আল-সায়েদ রিপাবলিকান মাইক রজার্সের চেয়ে ২ পয়েন্টে এবং জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর জন ওসফ মাইক কলিন্সের চেয়ে ৮.১ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। শুলজ সতর্ক করে বলেন, ডেমোক্র্যাটদের এই জনসমর্থন মানেই তাদের সব এজেন্ডার প্রতি অনুমোদন নয়। অনেক ভোটার ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন করলেও দলের আদর্শিক দিক নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই প্রার্থীরা স্থানীয় বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার (ডিএসএ) মতো উগ্রবাদী অংশ থেকে নিজেদের আলাদা করার চেষ্টা করছেন।
ঐতিহাসিকভাবে, ক্ষমতাসীন দলের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং হয়। শুলজ মনে করেন, শুধুমাত্র অসন্তোষ দিয়ে ডেমোক্র্যাটদের জয় পাওয়া কঠিন, তাদের ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য বিকল্প তুলে ধরতে হবে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হাতবদল হলে ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। ডেমোক্র্যাটরা ফেডারেল বিচারক ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে পারবে। শুলজের মতে, এটিই হবে সবচেয়ে বড় ফলাফল, কারণ এর মাধ্যমে ট্রাম্পের নিয়োগ ক্ষমতা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে। ডেমোক্র্যাটরা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে প্রশাসনের ওপর নজরদারি বাড়বে এবং রিপাবলিকানদের আইন পাস করা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা এবং সিনেট রিপাবলিকানদের ফিলিবাস্টার করার সুযোগ তখনও থাকবে।

