অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রোটিয়াদের জয়ে সাইমন হারমারের দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্স

সেন্ট জর্জেস পার্কে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ও ৩১ রানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বৃহস্পতিবার অর্জিত এই বড় জয়ে কেশব মহারাজের বদলে দলে জায়গা পাওয়া সাইমন হারমার ব্যাট, বল ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। শক্ত গ্রিপ, দীর্ঘ ও শক্তিশালী আঙুল এবং সুবিশাল হাতের তালুর জন্য পরিচিত এই অফস্পিনারের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ও মাঠের ভেতরের সচেতনতা প্রোটিয়াদের এই দাপুটে জয়ের মূল ভিত্তি গড়ে দেয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ১১০ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর টেম্বা বাভুমা ও মার্কো জানসেন ১৩২ রানের জুটি গড়ে চাপ সামলান। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে বাভুমার সঙ্গে অষ্টম উইকেটে ১৮৩ রানের রেকর্ড জুটি গড়েন হারমার। তিনি নিজে খেলেন ক্যারিয়ার সেরা ৮২ রানের ইনিংস। বাভুমা ও হারমারের এই জুটির ওপর ভর করেই ৯ উইকেটে ৪২৫ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা।

জবাবে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস মাত্র ৯৯ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পথে ক্যাচিংয়ে দারুণ দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন হারমার। গালিতে এনরিখ নরকিয়ার বলে মারনাস ল্যাবুশেনকে আউট করতে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে একটি নিচু ক্যাচসহ একাই তিনটি ক্যাচ নেন তিনি। প্রথম ইনিংসের ওই ক্যাচ নিয়ে হারমার বলেন, "এটি পুরোপুরি সহজাত প্রক্রিয়া; হয় আপনি ঝাঁপাবেন, না হয় যাবেন না। ক্যাচটি হয়তো দ্বিতীয় স্লিপে থাকা এইডেন মার্করামের কাছেও যেতে পারত, তবে এভাবে যখন আপনি ঝাঁপ দেবেন, তখন নিশ্চিত করতে হবে যেন ক্যাচটি নেওয়া যায়।"

বোলিংয়ের দিক থেকে প্রথম ইনিংসে স্পিনারদের খুব একটা প্রয়োজন হয়নি, পেসাররাই সব উইকেট তুলে নেন। হারমার সেখানে ৫.৩ ওভারে দেন মাত্র ৯ রান। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে বৃষ্টির কারণে চার দিন পর নির্ধারিত ওভারের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি খেলা নষ্ট হওয়ায় পিচে প্রত্যাশিত ক্ষয় দেখা যায়নি। তবুও ৩৯ ওভার বোলিং করে ৯৩ রান খরচায় ল্যাবুশেন ও বো ওয়েবস্টারকে আউট করেন হারমার। অন্য প্রান্তে কাগিসো রাবাদা ও উইয়ান মুল্ডার সাত উইকেট ভাগ করে নেন।

ম্যাচে নিজের বোলিং পারফরম্যান্স নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন হারমার। তিনি বলেন, "আমি পরিস্থিতি বুঝেছিলাম এবং জানি আমার কাছে কী প্রত্যাশা ছিল। তবে পরিবারকে অন্ন জোগায় উইকেটই। আজ বিশেষ করে পঞ্চম দিনের পিচে পেসারদের ওপর থেকে কিছুটা চাপ কমাতে পারলে ভালো লাগত। স্পিনার হিসেবে রান করতে ভালো লাগে এবং উইকেট নেওয়াটাই আমার প্রধান কাজ। রান করতে পারলে আমি বেশি আত্মতুষ্টি পাই, ফলে দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরেছি। তবে বোলিংয়ে এটি আমার সেরা পারফরম্যান্স ছিল না। অজুহাত দেওয়া আমার পছন্দ নয়, আমি স্বীকার করছি যে আরও ভালো বোলিং করা সম্ভব ছিল।"

এর আগে ডারবানের কিংসমিডে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে ২১৪ রানে হেরেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ওই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা নিজেদের স্বাভাবিক পজিশনের বাইরে খেলে সফল হয়েছিলেন। যেমন ম্যাট রেনশ তার ২৫ ইনিংসের মধ্যে ২০ ইনিংসে ওপেন করলেও ডারবানে পাঁচ নম্বরে নেমে ১৯০ ও ৮২ রান করেন। সেন্ট জর্জেসে সেই ব্যর্থতা ঘুচিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে হারমার বলেন, "সবচেয়ে হতাশার বিষয় ছিল এটি জানা যে ওদের কয়েকজন দলে নতুন এসেছে বা নিজেদের স্বাভাবিক পজিশনের বাইরে খেলছিল, অথচ আমরা তার সুযোগ নিতে পারিনি। গকেবেরহায় তাদের ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারা সত্যি দারুণ। এতে বোঝা গেল তারাও মানুষ এবং সঠিক বোলিংয়ে চাপ সৃষ্টি করতে পারলে তাদের নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। ডারবানের হারের পর আমাদের সবার মধ্যেই নিজেদের সেরাটা না দেওয়ার এক ধরণের জেদ ও তাড়না তৈরি হয়েছিল।"

দক্ষিণ আফ্রিকা দলের এই দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে চমৎকার ড্রেসিংরুম সংস্কৃতি কাজ করেছে বলে জানান হারমার। তিনি উল্লেখ করেন, ক্রিকেটের বাইরেও পুরো দল একসঙ্গে অনেক সময় কাটায় এবং সবাই একটি দলের মতো উপভোগ করে। ডারবানের কঠিন হারের পরেও দলের সবাই একসঙ্গে বসে গল্প ও হাসিঠাট্টা করেছিলেন।

২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ইস্টার্ন প্রোভিন্স ও ওয়ারিয়র্সের হয়ে সেন্ট জর্জেস পার্কে ২৩টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে হারমারের। নিজের ঘরের মাঠের সামুদ্রিক বাতাস ও উইকেটের আচরণ সম্পর্কে তার পরিষ্কার ধারণা ছিল। পার্ক ড্রাইভ অ্যান্ড থেকে অসম বাউন্স এবং ডাকপন্ড অ্যান্ড থেকে বেশি বাউন্স পাওয়ার বিষয়টি জানতেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে ল্যাবুশেনের আউটের ক্ষেত্রে পার্ক ড্রাইভ অ্যান্ড থেকে খেলা শটটি দমকা হাওয়ার কারণে আটকে যায়। ওল্ড স্ট্যান্ড ও ডাকপন্ড প্যাভিলিয়নের মধ্যবর্তী বাতাস গলে আসা এই হাওয়ায় বল ছক্কা না হয়ে লং-অনে মার্কো জানসেনের হাতে জমা পড়ে। হারমার জানান, স্থানীয় বাতাসের এই গতিপ্রকৃতি আগে থেকেই তার জানা ছিল।

মঙ্গলবার থেকে কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের সিদ্ধান্তমূলক তৃতীয় ও শেষ টেস্টে মুখোমুখি হবে দুই দল। নিউল্যান্ডসে হারমারের খেলার অভিজ্ঞতা মাত্র ৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচের হলেও, নির্ধারণী ম্যাচের রণকৌশল তৈরিতে তার এই সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা প্রোটিয়াদের জন্য বড় সম্পদ হতে যাচ্ছে।

শিরোনাম :
ই-কোলাই প্রাদুর্ভাবের উৎস ট্রেডার জো’স চিকেন র‍্যাপস, নিশ্চিত করল এফডিএ পরবর্তী জেমস বন্ড হওয়ার চূড়ান্ত লড়াইয়ে তিন ব্রিটিশ অভিনেতা আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলেইয়ের বিরুদ্ধে ক্রিপ্টো জালিয়াতির মামলা খারিজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রোটিয়াদের জয়ে সাইমন হারমারের দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্স কানাডিয়ান পণ্যের শুল্ক কমালেন ট্রাম্প, মেইন অঙ্গরাজ্যে স্বস্তি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: সিনেট নিয়ন্ত্রণে রিপাবলিকানদের কঠিন লড়াই ৫ বছর পর ছেলের সাথে কথা বললেন মিয়ানমারের বন্দি নেত্রী সু চি স্থল অভিযান চালালে ইরান হবে বিদেশি সেনাদের কবরস্থান: আইআরজিসি ম্যানইউর কোচ হওয়ার বিষয়ে ফ্যাব্রেগাসকে সতর্ক করলেন লিনেকার ও শিয়ারার ‘অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররাও মানুষ, চাপ দিলে ভেঙে পড়ে’: সাইমন হারমার ই-কোলাই প্রাদুর্ভাবের উৎস ট্রেডার জো’স চিকেন র‍্যাপস, নিশ্চিত করল এফডিএ পরবর্তী জেমস বন্ড হওয়ার চূড়ান্ত লড়াইয়ে তিন ব্রিটিশ অভিনেতা আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলেইয়ের বিরুদ্ধে ক্রিপ্টো জালিয়াতির মামলা খারিজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রোটিয়াদের জয়ে সাইমন হারমারের দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্স কানাডিয়ান পণ্যের শুল্ক কমালেন ট্রাম্প, মেইন অঙ্গরাজ্যে স্বস্তি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: সিনেট নিয়ন্ত্রণে রিপাবলিকানদের কঠিন লড়াই ৫ বছর পর ছেলের সাথে কথা বললেন মিয়ানমারের বন্দি নেত্রী সু চি স্থল অভিযান চালালে ইরান হবে বিদেশি সেনাদের কবরস্থান: আইআরজিসি ম্যানইউর কোচ হওয়ার বিষয়ে ফ্যাব্রেগাসকে সতর্ক করলেন লিনেকার ও শিয়ারার ‘অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররাও মানুষ, চাপ দিলে ভেঙে পড়ে’: সাইমন হারমার