সন্তানের ডায়াপার বদলানো নিজের কাজ নয় বলে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন বাস্কেটবল তারকা লামেলো বল। সম্প্রতি ইএসপিএন-এর একটি সাক্ষাৎকারে নিজের ৯ মাস বয়সী ছেলে লাওয়ানকে লালন-পালনের বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন মিনেসোটা টিম্বারউলভসের এই পয়েন্ট গার্ড। তার সঙ্গী অ্যানা মন্টানা (প্রকৃত নাম এনালিসিয়া চাভেস)-র সঙ্গে যৌথভাবে সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে ডায়াপার পরিবর্তনের দায়িত্বটি তিনি পুরোপুরি সঙ্গীর ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন।
গত বুধবার সম্প্রচারিত ইএসপিএন-এর সাক্ষাৎকারটিতে ক্রীড়া ভাষ্যকার আর্নি জনসন জুনিয়র ২৫ বছর বয়সী লামেলো বলকে প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি নতুন বাবা হিসেবে বাচ্চার ডায়াপার পরিবর্তন করেন কি না। জবাবে লামেলো জানান, তার বান্ধবীই এসব সামলান। তাদের মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে তিনি জানেন তাকে কী ভূমিকা রাখতে হবে এবং তার সঙ্গী জানেন তাকে কী করতে হবে। জবাবে আর্নি জনসন হতাশা প্রকাশ করে বলেন যে লামেলো জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা মিস করছেন। তবে লামেলো নিজের অবস্থানে অনড় থেকে স্পষ্ট করেন, তিনি অতীতে হয়তো দু-একদিন ডায়াপার বদলেছেন, কিন্তু এটি কোনোভাবেই তার কাজ নয়।
লামেলো বলের এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে দ্য গার্ডিয়ানের কলামিস্ট আরওয়া মাহদাভি লিখেছেন, একজন ব্যক্তির আয় যত বেশিই হোক না কেন, পিতৃত্ব হলো ২৪ ঘণ্টার এক পূর্ণকালীন দায়িত্ব। ২০২৩ সালে ২৬০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পাঁচ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করলেও কোনো শিশুর কাছে বাবার সেই বিপুল আয়ের চেয়ে উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনই মুখ্য। আধুনিক সমাজব্যবস্থায় টেলিভিশনে এসে ডায়াপার না বদলানোর কথা নিয়ে বড়াই করাকে বেশ পুরনো আমলের মানসিকতা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
পরিসংখ্যানের তথ্য উল্লেখ করে মাহদাভি দেখান, ১৯৮২ সালে যুক্তরাজ্যে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গিয়েছিল ৪৩ শতাংশ বাবা কখনোই সন্তানের ডায়াপার বা 'ন্যাপার' বদলাননি। কিন্তু ২০০০ সালের মধ্যে সেই হার কমে মাত্র ৩ শতাংশে নেমে আসে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে গত ৫০ বছরে সন্তান পরিচর্যা ও লালন-পালনে মা-বাবার মধ্যে বাবার গড়ে দৈনিক ব্যয় করা সময় চার গুণ বেড়েছে এবং প্রায় ৮৫ শতাংশ বাবা মনে করেন যে তাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় হলো তাদের পিতৃত্ব। মাহদাভি মনে করিয়ে দেন, কোনো নারী অ্যাথলেট যদি প্রকাশ্যে বলতেন যে সন্তানের ডায়াপার বদলানো তার কাজ নয়, তবে তাকে কট্টরপন্থীদের তীব্র আক্রমণের শিকার হতে হতো।
এই প্রসঙ্গ টেনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের তুলনাও উঠে এসেছে। ২০০৬ সালে নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেলানিয়া ট্রাম্পের কথা উল্লেখ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্পের ডায়াপার কখনোই বদলাবেন না এবং মেলানিয়া হয়তো তাকে তা করতেও দেবেন না, কারণ তিনি তা ভুলভাবে করে ফেলবেন। এমনকি নিজের অন্য চার সন্তানের ডায়াপার কখনো বদলেছিলেন কি না, তা-ও তিনি মনে করতে পারেননি। গৃহস্থালির মৌলিক কাজ এড়িয়ে চলার জন্য কিছু পুরুষ যে অপারগতার ভান করেন, তাকে মনস্তাত্ত্বিক ভাষায় 'অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত অক্ষমতা' বা 'কৌশলগত অক্ষমতা' (ওয়েপনাইজড ইনকমপিটেন্স) বলা হয়।
লামেলো বলের বয়স কম হওয়ায় তাকে কিছুটা ছাড় দেওয়ার সুযোগ থাকলেও মাহদাভি পরামর্শ দেন, এ ধরনের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া থেকে তার শিক্ষা নেওয়া উচিত। উচ্চপদস্থ বা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা পুরুষদের জন্য তিনি 'ডায়াপার টেস্ট™' চালুর এক রসময় প্রস্তাব দেন। তার মতে, যে ব্যক্তি নিজের সন্তানের ময়লা পরিষ্কার করতে পারে না, সে তার কর্মক্ষেত্রেও জটিল পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হবে।

