পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পূজার মৌসুমে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও নির্যাতনের একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। সম্প্রতি চন্দ্রকোনায় তিনটি খ্রিস্টান পরিবারকে জোর করে দুর্গাপূজায় অঞ্জলি দেওয়া ও প্রসাদ খাওয়ানোর অভিযোগের পর, এবার পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া থানার অধীন এলাকায় একটি মাদরাসা ও সংলগ্ন মুসলিম পরিবারগুলোর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর মধ্যরাতে ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি লাঠি ও লোহার রডসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পাঁশকুড়ার ‘মাদরাসা শাহরে মদিনা’ এবং আশপাশের মুসলিম বাড়িগুলোতে অতর্কিতে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা মাদরাসার দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং ধর্মীয় বইপত্র ও সরকারি নথি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে নষ্ট করে দেয় বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের দেওয়ালে থাকা নামের ওপর কালি লেপে দেয় এবং সেখানে ‘জয় মা ভবানী’ ও ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান লিখে দেয়। মাদ্রাসার পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকটি মুসলিম পরিবারের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়, যেখানে জানালার কাচ ভেঙে ফেলার পাশাপাশি ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করা হয়। এছাড়া, হামলাকারীরা মুসলিম নারীদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করে এবং স্থানীয় বাসিন্দা, মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাহারগ্রাম ও সুরাননগরের বাসিন্দাদের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই মাদ্রাসায় আবাসিক ও অনাবাসিক মিলিয়ে প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। প্রতিষ্ঠানের সম্পাদক এস কে মমতাজ আলির ভাষ্যমতে, প্রায় ৫০ বছর ধরে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে অতীতে কখনো এমন ঘটনার সাক্ষী হতে হয়নি।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২২ অক্টোবর মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পাঁশকুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জাতীয় উন্নয়ন পার্টির জেলা পর্যায়ের নেতা সাদ্দাম আলি খানও পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং এলাকায় দীর্ঘদিনের হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। সাদ্দাম আলি খানের দাবি, পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও পুরো ঘটনা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

