তালেবান কর্তৃপক্ষের জারি করা মাদক নিষেধাজ্ঞার পর প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানে পোপি চাষ ও আফিম উৎপাদনে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ সংক্রান্ত দফতর (ইউএনওডিসি) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত এক বছরে দেশটিতে পোপি চাষ ও আফিম উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তীব্র দারিদ্র্যের কারণে কৃষকরা বাধ্য হয়ে গোপনে এই অবৈধ ফসল চাষ করছেন বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে।
ইউএনওডিসির দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় আফগানিস্তানে পোপি চাষ ৩৩০ শতাংশ এবং আফিম উৎপাদন ৪০০ শতাংশ বেড়েছে। আগের বছর যেখানে মাত্র ১০,০০০ হেক্টর (২৪,৭০০ একর) জমিতে পোপি চাষ হয়েছিল, ২০২৬ সালে তা বেড়ে ৪৩,০০০ হেক্টরেরও (১০৬,০০০ একর) বেশি জমিতে পৌঁছেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে কৃষকরা শস্যক্ষেতের মাঝে কিংবা দেয়ালঘেরা আঙিনায় গোপনে ছোট ছোট প্লটে পোপি চাষ করছেন।
২০২১ সালের আগস্টে তালেবান ক্ষমতায় আসার সময় আফগানিস্তান বিশ্বের সবচেয়ে বড় আফিম উৎপাদনকারী দেশ এবং ইউরোপ ও এশিয়ায় হিরোইনের প্রধান উৎস ছিল। ২০২২ সালের এপ্রিলে তালেবান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে মাদক চাষ নিষিদ্ধ করে, যা তৎকালীন সময়ে ওই ফসলের ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ কৃষক ও দিনমজুরকে চরম অর্থনৈতিক সংকটে ফেলেছিল। জাতিসংঘ জানায়, নতুন এই বৃদ্ধির পরও বর্তমান উৎপাদনের মাত্রা ২০২২ সালের নিষেধাজ্ঞার আগের যুগের চেয়ে কম, তবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পর এটিই এক বছরে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি। সংস্থাটি মনে করে, এই বৃদ্ধি সাময়িক নাকি আফিম চাষের নতুন পুনরুত্থানের ইঙ্গিত, তা বুঝতে ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
ইউএনওডিসির নির্বাহী পরিচালক মনিকা জুমা এক বিবৃতিতে বলেন, আফিম পোপি চাষ চারগুণ বেড়ে যাওয়ার এই চিত্র প্রমাণ করে যে, দরিদ্র কৃষকদের সামনে বিকল্প কোনো পথ না থাকলে অবৈধ চাষাবাদ বন্ধ রাখা কতটা কঠিন। তিনি তালেবান কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কৃষকদের বিকল্প জীবিকা তৈরি, কৃষি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাজারে তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন।
অন্যদিকে তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকী মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানকে অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দাবি করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও দায়িত্ব রয়েছে। মুত্তাকী মন্তব্য করেন, মাদকের মতো Phenomena-র বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াই কেবল আফগানিস্তানের একার কাজ নয়, এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও যৌথ দায়িত্ব। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি কৃষকদের বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি, আসক্তদের চিকিৎসা প্রদান এবং আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন তিনি।

