টিকটক ইনফ্লুয়েন্সার সারা গিলসন গত ১১ জুলাই নিজের অ্যাকাউন্টে ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওর ওপর তিনি লিখেছিলেন, “আমি যখন নেটফ্লিক্সের ডকুমেন্টারির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি, কারণ আমার প্রাক্তন হতে যাওয়া স্বামী একজন পেডোফাইল বা শিশু নির্যাতনকারী—যা আমি সবেমাত্র জানতে পেরেছি।” এটি নেটফ্লিক্স ডকুমেন্টারি স্টাইলে সাক্ষাৎকার দেওয়ার একটি জনপ্রিয় টিকটক ট্রেন্ডের অংশ ছিল। তবে এই ভিডিও পোস্ট করার মাত্র ১২ দিন পর ওওয়াসো পুলিশ বিভাগ সারা গিলসন এবং তার বিচ্ছিন্ন স্বামী জেরেমিয়া 'শন' ডাফিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের উভয়ের শরীরে গুলির চিহ্ন ছিল এবং এটি একটি হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারা গিলসন গত ১০ জুন ডাফির বিরুদ্ধে একটি জরুরি নিরাপত্তা আদেশ বা প্রোটেক্টিভ অর্ডারের আবেদন করেছিলেন, যা আদালত মঞ্জুর করেছিলেন। ওই আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, ডাফির কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে এবং তিনি আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। এর আগে ২০২১ সালে সারা ডাফির বিরুদ্ধে দুটি প্রোটেক্টিভ অর্ডারের আবেদন করলেও শুনানিতে উপস্থিত না থাকায় সেগুলো খারিজ হয়ে গিয়েছিল।
ঘটনার দিনই ডাফির বিরুদ্ধে আরও একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসে। এক কিশোরীর মা ডাফির বিরুদ্ধে আলাদা একটি প্রোটেক্টিভ অর্ডারের আবেদন করেছিলেন। ওই কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, ডাফি তার মেয়ের বাস্কেটবল কোচ ছিলেন এবং তিনি মেয়েটিকে তার হোটেল রুমে ডেকে নিয়ে অনুপযুক্ত আচরণ ও বার্তা পাঠাতেন। ওওয়াসো পুলিশের ক্যাপ্টেন নিক বোটম্যান জানিয়েছেন, ডাফির বিরুদ্ধে এমন আচরণ একাধিক রাজ্য ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরে ছিল।
সারার এই মর্মান্তিক মৃত্যু অনলাইনে পারিবারিক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কেন মহিলারা সময়মতো সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন না। ন্যাশনাল ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স হটলাইনের পরিচালক অ্যাঞ্জেলা লি জানান, সম্পর্ক ত্যাগ করা যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তা অত্যন্ত জটিল। তিনি বলেন, একজন নির্যাতিতা যখন সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন, তখন সেই সময়টিই সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে আর্থিক নির্ভরতা, বাসস্থান ও শারীরিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো জড়িয়ে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, যারা এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের উচিত কোনো অ্যাডভোকেটের সহায়তায় একটি 'সেফটি প্ল্যান' তৈরি করা। এর মধ্যে থাকতে পারে বিশ্বস্ত কারো সাথে গোপন কোড শেয়ার করা, জরুরি নগদ অর্থ জমানো এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা। ২০২৫ সালে হটলাইনটি ১৩ লক্ষ অনুসন্ধান পেয়েছে এবং সাত লক্ষাধিক ব্যক্তিকে সহায়তা করেছে। জনসমক্ষে ভুক্তভোগীদের দোষারোপ না করে সহানুভূতি প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারো সহায়তার প্রয়োজন হলে ১-৮০০-৭৯৯-সেফ (৭২৩৩) নম্বরে কল করার বা ৮৮৭৮৮ নম্বরে 'START' লিখে টেক্সট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
