অধিকৃত পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবারের বিভিন্ন ঘটনায় এক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন এবং আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নাবলুসের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত বুরকা গ্রামে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ৩৬ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, হামলার সময় উঁচু স্থান থেকে পড়ে গিয়ে তিনি জখম হন। একই এলাকায় বেইত দাজান শহরে জলপাই সংগ্রহের সময় কৃষকদের বাধা দেওয়া হয় এবং তাদের জমি থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হয়। আল-লুব্বান আল-শারকিয়া গ্রামেও ইসরায়েলি সেনারা জলপাই সংগ্রহকারীদের ধাওয়া করে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে, যার ফলে অন্তত ৩০ জন কৃষক জমি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন।
নাবলুসের আল-মাসুদিয়া এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা একটি বাড়িতে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। জেনিন গভর্নরেটের জাবা গ্রামেও বসতি স্থাপনকারীরা হামলা চালিয়েছে। জাবার মেয়র মোহাম্মদ আল-বাদদ জানিয়েছেন, তারা একটি গাড়িতে এসে একটি গাড়ি মেরামতের দোকান থেকে সরঞ্জাম চুরি করে। এছাড়া তিনটি গাড়ির জানালা ভেঙে ও টায়ার কেটে তারা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘর থেকে দুটি ভেড়া চুরি করে নিয়ে যায়।
রামাল্লাহর উত্তর-পূর্বে কাফর মালিক গ্রামে জলপাই সংগ্রহের সময় এক বিদেশি সংহতি কর্মীকে মারধর করা হয় এবং ইসরায়েলি বাহিনী দুজন ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করে। এছাড়া আল-মুগাইয়ির গ্রামে বসতি স্থাপনকারীরা জাবর পরিবারের বাড়ির কাছে থাকা কৃষকদের ওপর হামলা চালায় এবং ফিলিস্তিনিদের ঘর লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
ফিলিস্তিনের ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিম তীরে জলপাই চাষি, গাছ, কৃষি জমি ও সরঞ্জামের ওপর ৪০৯টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১৭টি হামলার জন্য অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের এবং ৯২টি হামলার জন্য ইসরায়েলি বাহিনীকে দায়ী করা হয়েছে। এসব হামলায় কৃষকদের জমিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া, ফসল চুরি এবং কৃষি সরঞ্জাম ধ্বংসের মতো ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

