ওয়াশিংটন ডুলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আধুনিকায়নের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। তিনি এই ফেডারেল মালিকানাধীন বিমানবন্দরটিকে একটি 'ভয়ংকর বিমানবন্দর' হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এর নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করার আগে তিনি বিভিন্ন ডিজাইন ও ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মের কাছ থেকে ত্রিমাত্রিক মডেল সংগ্রহ করেছেন এবং হোয়াইট হাউসে বসে নিজেই সেগুলোর খুঁটিনাটি পরিবর্তন করেছেন।
প্রস্তাবিত ২২.৫ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বিমানবন্দরের টার্মিনাল পরিবহন ব্যবস্থা, পার্কিং, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং এবং সামগ্রিক নান্দনিকতায় পরিবর্তন আনা। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বর্তমানে ব্যবহৃত মোবাইল লাউঞ্জ বা 'পিপল মুভারস' সরিয়ে ফেলার কথা বলা হয়েছে, যা ১৯৬২ সাল থেকে চালু রয়েছে এবং যাত্রীদের কাছে অত্যন্ত অজনপ্রিয়। এর পরিবর্তে একটি নতুন ইউ-আকৃতির ভূগর্ভস্থ অ্যারোট্রেন এবং চলন্ত ফুটপাত বা মুভিং সাইডওয়াক বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন নকশায় মূল টার্মিনালের আইকনিক ঢালু ছাদ অক্ষুণ্ণ রাখা হবে, তবে এর ভেতরের অংশ আধুনিকায়ন করে সেখানে নতুন টিকিট কিয়স্ক ও উন্মুক্ত ফয়ার তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া পার্কিং এলাকাকে মূল টার্মিনালের কাছাকাছি সরিয়ে আনা হবে। বর্তমানের এ, বি, সি এবং ডি গেটের জায়গায় চারটি নতুন রৈখিক কনকোর্স তৈরির প্রস্তাবও এই পরিকল্পনার অংশ। বর্তমানে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ব্যবহৃত সি ও ডি গেটগুলো ১৯৮৫ সালে অস্থায়ী হিসেবে নির্মিত হয়েছিল, যা দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে টিকে আছে।
এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৩০টি প্রস্তাব জমা পড়েছিল। এর মধ্যে এইচএনটিবি (HNTB), এসটিভি গ্রুপ, জ্যাকবস, ফেরোভিয়াল এবং এইকম (AECOM) অন্যতম। তবে প্রেসিডেন্ট ফেরোভিয়ালের ঢেউ খেলানো ছাদের নকশা এবং জ্যাকবসের ব্রিজ ডিজাইন প্রত্যাখ্যান করেন। ব্ল্যাকরক নামে একটি প্রতিষ্ঠান বিমানবন্দরটি পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চেয়েছিল, কিন্তু ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স এর বিরোধিতা করায় সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়।
শেষ পর্যন্ত এমন একটি ডিজাইন বেছে নেওয়া হয়েছে যা বিদ্যমান অবকাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী স্কট কার্বি এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। প্রকল্পের অর্থায়ন করবে মেট্রোপলিটন ওয়াশিংটন এয়ারপোর্টস অথরিটি (MWAA) এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স নতুন নির্মাণ কাজের চুক্তি করে বিমানবন্দরের কার্যক্রমের মাধ্যমে ঋণের অর্থ পরিশোধ করবে।
এই সপ্তাহে ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে তার এই পরিকল্পনা জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পরিবহন সচিব শন ডাফির উপস্থিতিতে হোয়াইট হাউস থেকে এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।

