ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কোমিশুভাকা গ্রামে রাশিয়ার বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হামলার শিকার স্থানটি একটি স্কুল হিসেবে ব্যবহৃত হতো, যেখানে স্থানীয়রা নিয়মিত মানবিক সহায়তা গ্রহণ করতেন।
জেলেনস্কির ভাষ্যমতে, রাশিয়া সচেতনভাবেই এই স্থানে হামলা চালিয়েছে। প্রথম বিমান হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা যখন সেখানে উপস্থিত হন, তখন আরও নয়টি বোমা নিক্ষেপ করা হয়। বিশেষ করে ওই আশ্রয়কেন্দ্রকে লক্ষ্য করেই এই 'ডাবল-ট্যাপ' হামলা চালানো হয়েছে যেখানে মানুষ আশ্রয় নিচ্ছিলেন।
আঞ্চলিক গভর্নর মিখাইলো সেমিকিন টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, নিহতের তালিকায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিসের দুজন উদ্ধারকর্মী রয়েছেন। এছাড়া হামলায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দলের প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, ভবনটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।
জেলেনস্কি আরও বলেন, এই ভবনটিতে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতি সপ্তাহে মানবিক সহায়তা পেতেন এবং রাশিয়া যে সেখানে বেসামরিক মানুষ জড়ো হয়, তা জানত না—এমনটি হওয়ার সুযোগ নেই। ওলেশকি শহরের মানবিক অভিযানের পর শান্তির পথে অগ্রগতির একটি সম্ভাবনা তৈরি হলেও, এই হামলার মাধ্যমে রাশিয়া সম্পূর্ণ বিপরীত বার্তা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে রাশিয়া কোনো ধরনের উত্তেজনা প্রশমন বা প্রকৃত ন্যায়বিচার চায় না, বরং তারা আরও হত্যাকাণ্ডের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। এর আগে ওলেশকি শহর থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি বিরল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। সেই বিরতি শেষ হওয়ার পরপরই জাপোরিঝিয়ার কোমিশুভাকা এলাকায় রাশিয়ার এই নতুন হামলার ঘটনা ঘটল।

