জাতীয় গ্রিড থেকে টানা পাঁচ দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় নেত্রকোণায় স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এই সংকটের ফলে জেলার তিতাস গ্যাসের আওতাধীন প্রায় ৫ হাজার ৬০০ আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহক চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় জেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও সংকটে পড়েছে। জেলা সদর হাসপাতাল, জেলা কারাগার এবং পুলিশ লাইন্সের মতো প্রতিষ্ঠানে দৈনন্দিন রান্না ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া জেলার একমাত্র সিএনজি ফিলিং স্টেশন 'এ.আর. খান পাঠান' এর কার্যক্রমও কার্যত বন্ধ রয়েছে। স্টেশনটির ইঞ্জিনিয়ার বোরহান কবির জানান, প্রায় এক মাস ধরে কম চাপের সমস্যা থাকলেও গত সাত-আট দিন ধরে ইনলেট প্রেসার পুরোপুরি শূন্যে নেমে এসেছে। ফলে কোনো যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না, যার প্রভাব পড়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অ্যাম্বুলেন্স সেবার ওপর।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত গ্যাস না পেয়ে অনেকেই ময়মনসিংহে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে জীবিকার তাগিদে অনেকে ব্যয়বহুল এলপিজি ব্যবহার করছেন, যার ফলে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রতি ট্রিপে ১০ থেকে ২০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া নিতে হচ্ছে। এতে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে প্রায়ই বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক চালক আয় কমে যাওয়ায় গাড়ির কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। নেত্রকোণা জেলা তিতাস গ্যাসের উপব্যবস্থাপক মো. গোলাম মর্তুজা জানান, এটি কোনো স্থানীয় সমস্যা নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ের একটি সাময়িক কারিগরি সংকট। সমস্যা সমাধানে দেশীয় প্রকৌশলীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। তিনি আরও জানান, নেত্রকোণা ময়মনসিংহের শেষ প্রান্তে হওয়ায় এখানে গ্যাসের চাপ সবচেয়ে বেশি কমে গেছে।
তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৫ হাজার ৬০০ আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকের পাশাপাশি একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন, ২৪টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং ২৯টি সরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ রয়েছে। যদিও গত দুই সপ্তাহ ধরেই কম চাপের কারণে ভোগান্তি চলছিল, তবে গত পাঁচ দিন ধরে গ্যাসের চাপ কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। তিতাস কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দিয়ে গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়েছে এবং আশা প্রকাশ করেছে যে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। ভুক্তভোগী গ্রাহক, পরিবহন চালক ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

