অজিঙ্ক রাহানের ক্যারিয়ার গড়ার নেপথ্যে কঠোর পরিশ্রম ও বিনয়

মুম্বাইয়ের উপকণ্ঠ ডম্বিভলি থেকে আজাদ ময়দান—অজিঙ্ক রাহানের ক্রিকেটের হাতেখড়ি হয়েছিল এই দীর্ঘ যাত্রাপথে। ডম্বিভলি থেকে আজাদ ময়দান প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে, যেখানে পৌঁছাতে তাকে প্রতিদিন প্রায় দুই ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হতো। এর মধ্যে ৮০ মিনিটই কাটত গাদাগাদি করা লোকাল ট্রেনে। সকাল ৭টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে ৯টা ৩০ মিনিটের ম্যাচে অংশ নেওয়া ছিল তার নিত্যদিনের রুটিন। সতীর্থরা জানান, অনুশীলনের মাঠেও রাহানের মনোযোগ ছিল অবিচল। মাঠে যখন অন্য খেলোয়াড়রা খাবারের সন্ধানে বাইরে যেতেন, রাহানে তখন নিজের আনা টিফিন বক্সেই সেরে নিতেন সকাল ও দুপুরের খাবার।

রাহানের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অন্যতম মেন্টর ছিলেন ভারতের সাবেক বাঁহাতি স্পিনার নীলেশ কুলকার্নি। তারা দুজনেই ডম্বিভলির এসভি জোশি হাই স্কুলের ছাত্র ছিলেন। স্কুলের কোচের অনুরোধে নীলেশ একদিন রাহানের ব্যাটিং দেখেন এবং তার একাগ্রতা ও শেখার আগ্রহে মুগ্ধ হন। পরবর্তীতে রাহানে নীলেশের প্রতিবেশী হওয়ার পর থেকে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। রাহানে ছোটবেলা থেকেই লাজুক ও অন্তর্মুখী স্বভাবের হলেও নিজের লক্ষ্যের ব্যাপারে ছিলেন অত্যন্ত দৃঢ়। সাবেক পেসার ধাওয়াল কুলকার্নি তাকে ‘বোলারদের অধিনায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেন, যার শান্ত স্বভাবের পেছনে লুকিয়ে ছিল এক ধরনের আগ্রাসী মানসিকতা।

রাহানের পরিশ্রমের এক অনন্য নিদর্শন পাওয়া যায় রাজু পাঠকের স্মৃতিচারণে। রিজভি কলেজের শিক্ষার্থী থাকাকালীন এক ম্যাচে পায়ে গুরুতর চোট থাকা সত্ত্বেও রাহানে সাত নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৩৫ রান করে দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন। ফিল্ডিংয়ে নিজের দুর্বলতা কাটাতেও তিনি ছিলেন আপসহীন। নীলেশ কুলকার্নি জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে ক্যাচ মিসের সমস্যা নিয়ে রাহানে তার কাছে পরামর্শ চেয়েছিলেন। কারাতে ব্যাকগ্রাউন্ডের কারণে তার হাত শক্ত হয়ে যেত, যা পরে তিনি কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে শুধরে নিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি ভারতের অন্যতম সেরা স্লিপ ফিল্ডার হিসেবে স্বীকৃত, যার ঝুলিতে ৮৫ টেস্টে ১০২টি ক্যাচ রয়েছে।

রাহানের ব্যাটিং দক্ষতা ছিল বিশ্বমানের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫টি সেঞ্চুরি ও ৫১টি হাফ সেঞ্চুরিসহ ৮০০০-এর বেশি রান করেছেন তিনি। সাবেক নির্বাচক এমএসকে প্রসাদ ২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ান্ডারার্সে রাহানের কঠিন পিচে খেলা ৪৮ রানের ইনিংসটিকে তার সেরা হিসেবে মনে করেন। এছাড়া নীলেশ কুলকার্নির মতে, ২০২০ সালে মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্টে রাহানের ১১১ রানের ইনিংসটি ছিল তার ক্যারিয়ারের সেরা, যেখানে ইনজুরি জর্জরিত দল নিয়ে তিনি দারুণ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

মাঠের বাইরেও রাহানে ছিলেন বিনয়ী ও অনুপ্রেরণাদায়ী নেতা। মুম্বাইয়ের হয়ে রঞ্জি ট্রফি জয় এবং দীর্ঘ সময় ঘরোয়া ক্রিকেটে তার অবদান ছিল অতুলনীয়। সাবেক ফিল্ডিং কোচ আর শ্রীধর জানান, অস্ট্রেলিয়া সফরে অধিনায়ক হিসেবে রাহানে নিজে সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি বুমরাহ, জাদেজা ও অশ্বিনের মতো বোলারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার বদলে সতীর্থদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পছন্দ করতেন, যা তাকে একজন প্রকৃত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

শিরোনাম :
প্রেম না করায় হেলিকপ্টারে করে ছেলের বউ আনলেন বাবা অদৃশ্য শত্রুর মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া: আপনার এক অসচেতন মুহূর্তই হতে পারে সর্বস্বান্ত হওয়ার কারণ টড ব্লাঞ্চের নিয়োগে অনড় ট্রাম্প, সমর্থন করলেন বিতর্কিত তহবিল এআই এজেন্টের হাতে যাচ্ছে শত কোটি মানুষের কাজ: জাকারবার্গ সবচেয়ে বুদ্ধিমান AI প্রজেক্ট এবার বাংলাদেশের তরুণদের হাতে ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব: বাংলাদেশ কি হতে পারবে দক্ষিণ এশিয়ার এআই হাব? ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের বিশেষ ক্যাবিনেট বৈঠক: ইরান ও অভিবাসন নিয়ে আলোচনা মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতির ১০০ দিনের ভাষণ: ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও আসিয়ানের সমালোচনা ত্রিশালে পুকুরে ডুবে দুই সহোদরের মর্মান্তিক মৃত্যু সাসুওলোতে যোগ দিলেন বোভি, মুলাত্তিয়েরি পাড়ি জমালেন ভেরোনায় প্রেম না করায় হেলিকপ্টারে করে ছেলের বউ আনলেন বাবা অদৃশ্য শত্রুর মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া: আপনার এক অসচেতন মুহূর্তই হতে পারে সর্বস্বান্ত হওয়ার কারণ টড ব্লাঞ্চের নিয়োগে অনড় ট্রাম্প, সমর্থন করলেন বিতর্কিত তহবিল এআই এজেন্টের হাতে যাচ্ছে শত কোটি মানুষের কাজ: জাকারবার্গ সবচেয়ে বুদ্ধিমান AI প্রজেক্ট এবার বাংলাদেশের তরুণদের হাতে ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব: বাংলাদেশ কি হতে পারবে দক্ষিণ এশিয়ার এআই হাব? ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের বিশেষ ক্যাবিনেট বৈঠক: ইরান ও অভিবাসন নিয়ে আলোচনা মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতির ১০০ দিনের ভাষণ: ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও আসিয়ানের সমালোচনা ত্রিশালে পুকুরে ডুবে দুই সহোদরের মর্মান্তিক মৃত্যু সাসুওলোতে যোগ দিলেন বোভি, মুলাত্তিয়েরি পাড়ি জমালেন ভেরোনায়