ফ্লোরিডার জন মারভিন, টেক্সাসের স্যান্ডি হেবলি এবং পেনসিলভানিয়ার সোফি গেলিং—দেশটির ভিন্ন ভিন্ন প্রান্তে বসবাস করলেও তাদের মধ্যে একটি মিল রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই স্বতন্ত্র ভোটার এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দৌড়ে তাদের ভোটের প্রভাব নিয়ে ভাবছেন। গ্যালপ এবং পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত ভোটারদের প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৪ জনই স্বতন্ত্র, যা এই মেরুকরণের যুগে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ভোটার অ্যাডভোকেসি অলাভজনক সংস্থা 'ওপেন প্রাইমারিজ'-এর প্রতিষ্ঠাতা জন অপডাইকের মতে, মানুষ প্রথাগত রাজনৈতিক দলের সাথে আবদ্ধ থাকতে চাইছে না, যা রাজনীতিবিদদের নজর কাড়ছে। 'দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট সেন্টার'-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র ভোটারদের ৮ থেকে ১১ শতাংশ ঝোঁক ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে ছিল, যা নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছিল। এছাড়া ৪৩টি কংগ্রেসনাল আসনের ফলাফল ৫ শতাংশের কম ব্যবধানে নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে এই ভোটারদের প্রভাব স্পষ্ট। ইন্ডিপেনডেন্ট সেন্টারের মতে, ২০২৪ সালের নির্বাচকমণ্ডলীর ৩৪ শতাংশ নিজেদের স্বতন্ত্র হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, যা রিপাবলিকানদের সমান এবং ডেমোক্র্যাটদের (৩২ শতাংশ) চেয়ে বেশি।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ১০০ দিনেরও কম সময় বাকি থাকতে, রিপাবলিকানরা তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে মরিয়া এবং ডেমোক্র্যাটরাও তাদের এজেন্ডা এগিয়ে নিতে স্বতন্ত্র ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছে। ফ্লোরিডার জন মারভিন তার রাজ্যের বদ্ধ প্রাইমারি ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, করদাতাদের অর্থে চলা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার সবার থাকা উচিত। তিনি মনে করেন, স্বতন্ত্র ভোটাররা এখন মার্কিন নির্বাচকমণ্ডলীর একটি বড় অংশ, কিন্তু দলীয় প্রাইমারি ব্যবস্থার কারণে তারা প্রান্তিক হয়ে পড়ছেন। ৬৩ বছর বয়সী মারভিন জানান, তিনি সবসময়ই স্বতন্ত্র থেকেছেন এবং প্রার্থীর গুণাবলির ওপর ভিত্তি করে ভোট দিয়েছেন। তিনি ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসের কিছু কাজের প্রশংসা করলেও তার শিক্ষানীতি ও অভিবাসন সংক্রান্ত বিভাজনমূলক অবস্থানের সমালোচনা করেছেন।
টেক্সাসের স্যান্ডি হেবলি জানান, তিনি কখনোই দলীয় অন্ধ অনুসারী ছিলেন না এবং সবসময় যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি মনে করেন, এবারের নির্বাচনে দেশের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে। হেবলি বর্তমানে টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট জেমস ট্যালারিকোকে সমর্থন করার কথা ভাবছেন এবং রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনের সমালোচনা করেছেন। তিনি ভোট দেওয়ার অধিকার রক্ষায় কাজ করছেন এবং ডাল্লাস কাউন্টিতে পোল কর্মী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়ার সোফি গেলিং মনে করেন, বর্তমান দ্বিদলীয় ব্যবস্থা অকার্যকর এবং এটি একটি নাগরিক অধিকারের বিষয়। তিনি খোলা প্রাইমারির পক্ষে কথা বলছেন এবং বিশ্বাস করেন, স্বতন্ত্র ভোটাররাই এই নির্বাচনে কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের চাবিকাঠি। গেলিংয়ের মতে, জেন জেড এবং মিলেনিয়ালদের মধ্যে ৫২ শতাংশই স্বতন্ত্র, যা প্রথাগত ব্যবস্থার প্রতি তাদের অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যান্থনি ফাউলারের মতে, স্বতন্ত্র ভোটাররা তাদের ধারণার চেয়েও বেশি প্রভাবশালী। তারা অন্ধ দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে প্রার্থীর গুণাবলী এবং আদর্শের ভিত্তিতে ভোট দিতে বেশি আগ্রহী। জন অপডাইকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী ব্যবস্থার বাইনারি প্রকৃতির কারণে স্বতন্ত্র ভোটাররা এক দল থেকে অন্য দলে দোদুল্যমান থাকছেন, যা তাদের রাজনৈতিক বার্তা পাঠানোর একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

