উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্প্যানিশ ভূখণ্ড ‘সিউটা’ সীমান্তে নজিরবিহীন অভিবাসন সংকটের পটভূমিতে পরিদর্শনে গেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে মানব পাচারকারী ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে হাজার হাজার মানুষকে জীবনের চরম ঝুঁকিতে ঠেলে দিচ্ছে এই অপরাধী চক্র।
গুজবের ফাঁদে হাজারো মানুষ
সম্প্রতি স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের বিষয়ে একটি আইনি নির্দেশনা প্রদান করে। আদালতের সেই রায়কে ভুলভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক গুজব ছড়ায় পাচারকারী চক্রগুলো। প্রচার করা হয়, “একবার সিউতায় ঢোকার মুখ পেলেই আর কাউকে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়।”
এই বিভ্রান্তিকর তথ্যে বিশ্বাস করে মরক্কো সীমান্ত দিয়ে হাজার হাজার তরুণ ও অনিয়মিত অভিবাসী সিউটায় ঢোকার চেষ্টা শুরু করেন। এর ফলে সীমান্ত এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়, এমনকি সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাও ঘটে।
তরুণদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে: সানচেজ
সিউটা সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ঘটনাকে স্পেনের জাতীয় সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য এক গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে আখ্যা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “মানব পাচারকারী চক্র তরুণ সমাজকে অবাস্তব স্বপ্ন দেখিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তারা আইনি বিষয়গুলোকে বিকৃত করে চরম বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।” এ সময় সীমান্তে ঘটা সহিংসতা ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও সীমান্ত কড়াকড়ি
স্প্যানিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনি অবস্থান নেওয়া হবে। মরক্কো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনিয়মিতভাবে অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত স্বদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে স্পেন।
