ইরানের আধা-সরকারি ফারস নিউজ এজেন্সি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো সামরিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশ এবং ইসরায়েলের প্রধান জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়াশিংটন জানে যে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো এবং ইসরায়েলের স্থাপনাগুলো ইরানের নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যে রয়েছে।
ইরানের এই সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে সৌদি আরবের ঘাওয়ার তেল ক্ষেত্র এবং আবকাইক ও খুরাইস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের রুওয়াইস শোধনাগার ও জাকুম অফশোর তেল ক্ষেত্র, কাতারের নর্থ ফিল্ড গ্যাস মজুদ ও রাস লাফান এলএনজি রপ্তানি টার্মিনাল, কুয়েতের বুরগান তেল ক্ষেত্র এবং বাহরাইনের সিত্রা শোধনাগার ও মা’মির স্থাপনাকেও সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের লেভিয়াথান ও তামার গ্যাস ক্ষেত্রগুলোকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
ফারস নিউজ এজেন্সি সতর্ক করেছে যে, এই স্থাপনাগুলোতে আক্রমণ হলে তা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে, কারণ এর অনেকগুলোই অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্থাটি আরও স্মরণ করিয়ে দেয় যে, অতীতে ৪০ দিনের যুদ্ধের সময় ইরান কাতারের বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল, যখন তাদের সাউথ পার্স গ্যাস ক্ষেত্র আক্রান্ত হয়েছিল।
এই প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে প্রকাশ পেল যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে নতুন করে হামলার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে উত্তেজনা বাড়ছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে যে তাদের প্রতিরক্ষা বিভাগ বড় ধরনের মার্কিন হামলার প্রস্তুতির সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক রয়েছে।
এরই মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। আরাগচি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরান বা আঞ্চলিক কোনো দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন কোনো আক্রমণ চালালে বা কোনো দেশ তাতে অংশ নিলে ইরান তার সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে ‘চূড়ান্ত ও আনুপাতিক’ জবাব দেবে।

