চলমান সাদা বলের সিরিজে টানা চতুর্থ জয় তুলে নিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের করে নিল শ্রীলঙ্কা। এর আগে ওয়ানডে সিরিজও জিতেছিল স্বাগতিকরা। সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টির মতোই পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করে লড়াই করার মতো সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল, তবে শ্রীলঙ্কা অত্যন্ত সাবলীলভাবে ১৪ বল হাতে রেখেই ছয় উইকেটের জয় নিশ্চিত করে।
টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তান দুর্দান্ত সূচনা পেয়েছিল। পাওয়ারপ্লেতে ওপেনাররা বাউন্ডারির বন্যা বইয়ে দেন, যার মধ্যে তৃতীয় ওভারে শওয়াল জুলফিকার একাই পাঁচটি বাউন্ডারি হাঁকান। মাত্র পাঁচ ওভারেই পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৬৩ রান। এরপর চারটি ওভার কিছুটা ধীরগতির ছিল এবং দলীয় অর্ধেক সময়ে মুনিবা আলীর বিদায়ে ছন্দপতন ঘটে। ২০০ রানের কাছাকাছি যাওয়ার লক্ষ্য থাকলেও পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ১৭৫ রানে থামে, যা তাদের শুরুর তুলনায় অন্তত ১৫ রান কম ছিল। পাকিস্তানের হয়ে শেষদিকে ইমান ফাতিমা অপরাজিত ৩০ রানের ইনিংস খেলেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে চামদি প্রবোধা ২৭ রানে দুই উইকেট শিকার করেন।
১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ওভারেই আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ইমেশা দুলানিকে হারায়। তবে অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু ও সঞ্জনা কাবিন্দি পাওয়ারপ্লের সুবিধা কাজে লাগান। বিশেষ করে আতাপাত্তু তৃতীয় ও চতুর্থ ওভারে তাণ্ডব চালিয়ে মাত্র ১৪ বলে ৪০ রান তুলে নেন। মাত্র চার ওভারে ৫১ রান তুলে শ্রীলঙ্কা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। আতাপাত্তু আউট হওয়ার পর কাবিন্দি দায়িত্ব তুলে নেন। তিনি নাসরা সান্ধুর এক ওভারে পরপর দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের মোড় পুরোপুরি শ্রীলঙ্কার দিকে ঘুরিয়ে দেন। কাবিন্দি আউট হলেও হার্শিতা সামারাবিক্রমা ১১ বলে ২৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলের জয়ের পথ সুগম রাখেন। শেষ পর্যন্ত ১৮তম ওভারে ভিশমি গুনারত্নে আউট হলেও শ্রীলঙ্কা সহজেই জয় নিশ্চিত করে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: পাকিস্তান ১৭৫/৫ (২০ ওভার) [শওয়াল জুলফিকার ৪৮, মুনিবা আলী ৪৫; চামদি প্রবোধা ২-২৭]; শ্রীলঙ্কা ১৭৮/৪ (১৭.৪ ওভার) [সঞ্জনা কাবিন্দি ৪৬, চামারি আতাপাত্তু ৪০; উম্মে হানি ২-২৮] (শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেটে জয়ী)।

