
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বৈশ্বিক প্রযুক্তিসভায় এক নতুন অধ্যায়ে যুক্ত হলো বাংলাদেশ। চীনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন’ (WAICO)-এ প্রাথমিকভাবে ‘পর্যবেক্ষক’ (Observer) হিসেবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয় যে, এআই খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি কাঠামোর সঙ্গে সংযোগ জোরদার করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুলাই মাসে চীনের সাংহাই শহরে সংস্থাতটির মূল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং প্রায় ২৯টি দেশ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে এতে প্রথম পর্যায়ে যোগ দেয়।
যেসব সুবিধা পাবে বাংলাদেশ
সংস্থাটির অংশীদার হওয়ার মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তিখাত ও উদ্ভাবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর প্রধান ইতিবাচক দিকগুলো হলো:
- প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি: স্থানীয় গবেষক, উদ্যোক্তা ও আইটি খাতের জন্য আন্তর্জাতিক গবেষণা, প্রযুক্তি বিনিময় এবং কারিগরি জ্ঞান অর্জনের বড় সুযোগ তৈরি হবে।
- ডিজিটাল বৈষম্য দূরীকরণ: উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহারে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সমান সুযোগ তৈরিতে বাংলাদেশ ভূমিকা রাখতে পারবে।
- দায়িত্বশীল এআই নীতি: বিশ্বজুড়ে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চর্চার আন্তর্জাতিক নীতিমালা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ অংশীদার হবে।
বাংলাদেশের এআই খাতের অগ্রগতিতে করণীয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থার পর্যবেক্ষক মর্যাদা পাওয়ার পাশাপাশি দেশের ভেতরের প্রযুক্তি পরিবেশ উন্নত করাও জরুরি। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি পদক্ষেপে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন:
১. দক্ষ জনশক্তি তৈরি: এআই-ভিত্তিক উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার জন্য আধুনিক ল্যাব ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা।
২. উপাত্ত সুরক্ষা নীতি: নাগরিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত না করে নিরাপদ প্রযুক্তির ব্যবহারে স্বচ্ছ নীতিমালা তৈরি করা।
৩. উদ্ভাবন ও স্টার্টআপে সহায়তা: স্থানীয় এআই স্টার্টআপ ও গবেষণায় সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।
প্রযুক্তি খাতে বৈশ্বিক মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে তরান্বিত করতে এই উদ্যোগকে বড় একটি অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
