পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সোয়াত জেলায় একটি পুলিশ স্টেশনের কাছে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এছাড়া এই ঘটনায় আরও ২২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রোববার পুলিশ জানিয়েছে, সোয়াত জেলার একটি জনাকীর্ণ মোড়ে নাগরিক সমাজের একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। সোয়াতের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ ফিদা হোসেন এএফপিকে জানিয়েছেন, হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন আত্মঘাতী হামলাকারীর দেহাবশেষ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, আত্মঘাতী হামলাকারী পুলিশ স্টেশনের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু মূল ফটকে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাকে বাধা দিলে সে সেখানেই বিস্ফোরণ ঘটায়।
হামলাটি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সংঘটিত হয়েছে, যেখানে কর্তৃপক্ষ তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিরাপত্তা অভিযান চালিয়ে আসছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। একই দিনে পেশোয়ারে একটি হাতে তৈরি বোমা বিস্ফোরণে চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, যার দায় স্বীকার করেছে টিটিপি।
পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র শুক্রবার জানিয়েছেন যে, চলতি বছর সন্ত্রাসী হামলা ও নিরাপত্তা অভিযানের ফলে মোট ৮১৯ জন নিরাপত্তা কর্মী ও বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। পাকিস্তান অতীতে সীমান্ত প্রদেশগুলোতে এই ধরনের সহিংসতার জন্য আফগানিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসীদের দায়ী করে আসছে, তবে কাবুলের তালিবান সরকার তাদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে আসছে।

