
যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, তেল অবরোধ ও জরাজীর্ণ অবকাঠামোর চতুর্মুখী চাপে চরম সংকটে পড়েছে ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কিউবা। জ্বালানি সংকটে দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড পুরোপুরি ভেঙে পড়ে গত রবিবার রাতে নতুন করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র ব্ল্যাকআউট। এতে রাজধানী হাভানাসহ এক কোটি মানুষের পুরো দেশই অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে থমকে গেছে।
জুলাই মাসজুড়ে তিনবার দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর আগস্টের শুরুতেই নতুন এই ধাক্কা এলো।
কিউবার রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থা ইউএনই (UNE) জানায়, জাতীয় সঞ্চালন ব্যবস্থার ‘সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা’ ঘটেছে। দেশটির শক্তি মন্ত্রণালয় জরুরি ভিত্তিতে গ্রিড পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানালেও, জরাজীর্ণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কারণে সংকট দ্রুত কাটছে না।
জ্বালানি সংকটের মূলে মার্কিন অবরোধ
কমিউনিস্টশাসিত দেশটি মূলত পুরোনো তেলভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভর করে। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে নেমে আসা ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ধসে পড়েছে:
- ভেনিজুয়েলা ও মেক্সিকো থেকে সরবরাহ বন্ধ: ওয়াশিংটন ভেনিজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার পর, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির ওপর তেল অবরোধ আরোপ করেন। ফলে কিউবার প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী ভেনিজুয়েলা থেকে তেল আসা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে মেক্সিকো থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা করা হলেও মার্কিন প্রশাসনের কড়া কূটনৈতিক চাপে তা-ও বন্ধ হয়ে যায়।
- সীমিত রাশিয়ান তেলও শেষ: মার্চে ওয়াশিংটনের বিশেষ অনুমতিতে রাশিয়া থেকে ১ লাখ টন তেলের একটি চালান কিউবায় পৌঁছালেও সেই মজুদ ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেছে।
বহুমুখী চাপে কিউবা
জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি কিউবার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চলেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর প্রভাবে দ্বীপে কর্মরত অনেক বিদেশি কোম্পানি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ বা স্থগিত করতে বাধ্য হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রায় ৩০ বছর আগের এক ঘটনা টেনে এনে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে মার্কিন আদালত। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন কিউবাকে তৃতীয়বারের মতো ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’-এর তালিকায় যুক্ত করেছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিউবা হস্তগত করার ইঙ্গিতপূর্ণ হুমকিও দিয়েছেন।
বিদ্যুৎ না থাকায় পানির পাম্প ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশটির সাধারণ নাগরিকেরা। একদিকে মার্কিন ব্ল্যাকহেড ও নিষেধাজ্ঞা, আর অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ঘাটতি সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কিউবা।
