কার্ডিফের চ্যালেঞ্জিং পিচে সাউদার্ন ব্রেভের শক্তিশালী পেস আক্রমণ সামলে ওয়েলশ ফায়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে। ম্যাট শর্টের ৪১ বলে অপরাজিত ৬০ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে দলটি পাঁচ উইকেটে জয় পায়। এই জয়ের ফলে ওয়েলশ ফায়ার ১৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা ট্রেন্ট রকেটের সমকক্ষ হয়েছে। এটি তাদের পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চতুর্থ জয়, যা কেবল প্লে-অফের দৌড়েই তাদের এগিয়ে দেয়নি, বরং সরাসরি ফাইনালে খেলার সম্ভাবনাকেও উজ্জ্বল করেছে। অন্যদিকে, এই পরাজয়ের ফলে সাউদার্ন ব্রেভের প্লে-অফে খেলার আশা এখন সুতোর ওপর ঝুলছে; তাদের শেষ দুটি লিগ ম্যাচে জয় পাওয়া এখন বাধ্যতামূলক।
টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া ওয়েলশ ফায়ারের অভিজ্ঞ পেসাররা পিচের কন্ডিশন দারুণভাবে কাজে লাগান। ইনিংসের প্রথম সাত বলের মধ্যেই ক্রিস ওকস ও স্যাম কুক সাউদার্ন ব্রেভের জ্যামি স্মিথ ও বেন ম্যাককিনিকে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন। ফিল সল্টের গ্লাভসবন্দি হয়ে তারা দুজনই আউট হলে ব্রেভ ২ রানে ২ উইকেটে পরিণত হয়। পিচে বল মুভমেন্ট থাকায় রান তোলা কঠিন ছিল। মার্কাস স্টয়নিস ও নিখিল চৌধুরী কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও স্যাম কুকের বলে স্টয়নিস ছাড়া আর কেউ বড় স্কোর গড়তে পারেননি। ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে ব্রেভ ৩ উইকেটে ৪৫ রানে ছিল। এরপর রাচিন রবীন্দ্র তার স্পিন ঘূর্ণিতে ট্রিস্টান স্টাবস ও মঈন আলীকে পরপর দুই বলে আউট করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফায়ারের দিকে নিয়ে আসেন।
সাউদার্ন ব্রেভের হয়ে মার্কাস স্টয়নিস ৩৫ বলে হাফসেঞ্চুরি করে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু স্যাম কুকের দুর্দান্ত বোলিংয়ে (৩/১৪) ব্রেভ শেষ পর্যন্ত তাদের হান্ড্রেড ইতিহাসের সর্বনিম্ন ১১৫ রানে গুটিয়ে যায়। ম্যাট শর্টও বল হাতে দুটি উইকেট শিকার করেন। ১১৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জফরা আর্চারের তোপে ফিল সল্ট দ্রুত আউট হলেও ওয়েলশ ফায়ার আতঙ্কিত হয়নি। ম্যাট শর্ট ও জো রুট ৫৬ রানের একটি নিয়ন্ত্রিত জুটি গড়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। রুট ক্রিস জর্ডানের শিকার হলেও শর্ট নিজের ধৈর্য ধরে রেখেছিলেন। তিনি পিচের কন্ডিশন বুঝে স্মার্টলি রান সংগ্রহ করেন এবং পেসারদের বিপক্ষে স্কুপ ও র্যাম্প শট কার্যকরভাবে ব্যবহার করেন। ৩৭ বলে নিজের হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করা শর্ট শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে টম কোহলার-ক্যাডমোরকে (অপরাজিত ২৩) সঙ্গে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

