পোর্ট অফ স্পেনে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং কোচ রবি রামপল তার দলের বোলারদের, বিশেষ করে ফাস্ট বোলারদের ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দিন শেষে পাকিস্তান ২ উইকেট হারিয়ে ২৬৬ রান সংগ্রহ করেছে এবং স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংসের তুলনায় তারা এখন ৭৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে।
রামপল মনে করেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে ৩৪৪ রানে অলআউট হওয়ার পর পিচটি দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিংয়ের জন্য আরও সহজ ও সমতল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, পিচটিতে দ্রুতগতির বোলারদের জন্য সুযোগ কম ছিল, যদিও স্পিনাররা কিছুটা সহায়তা পেয়েছেন। দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি বলেন, বোলিং গ্রুপ হিসেবে তাদের ধারাবাহিকতার অভাব আবারও ফুটে উঠেছে। বল করার শুরুতে তারা যতটা ধারাবাহিক হওয়া প্রয়োজন ছিল, তা হতে পারেনি এবং রান রেট নিয়ন্ত্রণে আনার সময় পিচের প্রতিকূলতায় সেটি বেশ কঠিন ছিল।
ম্যাচের এখন পর্যন্ত ৬৬ ওভারে পাকিস্তান ৪.০৩ রান রেটে ব্যাট করছে, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৩.২৫ রান রেটের তুলনায় অনেক বেশি। রামপল জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন পিচ বা বল থেকে খুব বেশি সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে না, তখন ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই উইকেট পাওয়ার সেরা উপায়। তিনি আরও বলেন, ফাস্ট বোলারদের আরও বেশি ধারাবাহিক হয়ে রান আটকাতে হবে, যাতে স্পিনাররা আক্রমণের সুযোগ পান।
পাকিস্তানের আব্দুল্লাহ শফিক ও বাবর আজমের অবিচ্ছিন্ন ১৬৮ রানের জুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের জন্য কাজটিকে কঠিন করে তুলেছে বলে মনে করেন রামপল। তিনি বলেন, তারা পরিস্থিতি অনুযায়ী খুব ভালো ব্যাট করেছে, ভালো বলগুলো রক্ষণাত্মকভাবে খেলেছে এবং বাজে বলগুলোকে সীমানাছাড়া করেছে। এছাড়া তাদের উইকেটের মাঝের রানিংও ছিল দুর্দান্ত, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের থিতু হতে দেয়নি।
ত্রিনিদাদের বাসিন্দা ও কুইন্স পার্ক ওভালের অভিজ্ঞ এই কোচ আশা প্রকাশ করেন যে, ম্যাচের পরবর্তী সময়ে পিচ থেকে স্পিনাররা আরও বেশি সুবিধা পাবেন। তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় পিচটি সময়ের সাথে সাথে আরও ভেঙে যাবে এবং স্পিনাররা বাড়তি টার্ন ও বাউন্স পাবেন, যা তাদের সাফল্য পেতে সাহায্য করবে।

