
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো অর্থনীতি পরিচালনায় ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির চেয়ে বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ওপর বেশি আস্থা প্রকাশ করেছেন দেশটির ভোটাররা।
রয়টার্স ও ইপসোসের সর্বশেষ যৌথ জাতীয় জনমত জরিপে উঠে এসেছে এই চমকপ্রদ তথ্য।
জরিপ অনুযায়ী, মার্কিন অর্থনীতি সামলানোর ক্ষেত্রে ৩৭ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার ডেমোক্র্যাটদের দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিকে তুলনামূলক ভালো মনে করছেন। বিপরীতে রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৬ শতাংশ ভোটার। অবশিষ্ট ২৭ শতাংশ ভোটার নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে অন্য কোনো দল নির্বাচন করেছেন কিংবা সুনির্দিষ্ট কোনো মতামত দেননি।
মিডটার্ম নির্বাচনে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা
আগামী ২০২৬ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) কংগ্রেস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটরা জাতীয় পর্যায়ে রিপাবলিকানদের চেয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, আজ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ৪২ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীদের ভোট দেবেন বলে জানান, যেখানে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থন করছেন ৩৭ শতাংশ ভোটার। এমনকি সিদ্ধান্তহীন ও স্বতন্ত্র (ইন্ডিপেনডেন্ট) ভোটারদের মধ্যেও ১২ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তলানিতে
জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামগ্রিক কাজের ওপর মার্কিন জনগণের অনুমোদন (অ্যাপ্রুভাল) রেটিং কমে ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে অন্যতম সর্বনিম্ন অবস্থান।
ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, অব্যাহত অর্থনৈতিক চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে পেট্রোল ও জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ে ভোটারদের তীব্র অসন্তোষকে এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ইস্যুতে ভোটারদের প্রথম পছন্দ হিসেবে বিবেচিত হতো রিপাবলিকান পার্টি। ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরু থেকে জো বাইডেনের চার বছরের মেয়াদেও অধিকাংশ জরিপে অর্থনীতি পরিচালনায় রিপাবলিকানরা এগিয়ে ছিল। দীর্ঘ সময় পর রয়টার্স/ইপসোসের ফলাফলে ভোটারদের এই বড় ধরনের মানসিক পরিবর্তনের আভাস মিলল।
আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইপসোস ৩০ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৪ হাজার ৫০৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকের ওপর অনলাইনে এই জরিপটি পরিচালনা করে।
