আমেরিকার ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে আয়োজিত জমকালো আতশবাজি প্রদর্শনী এক নতুন বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টি করেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, এই আয়োজনটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আতশবাজি প্রদর্শনী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ন্যাশনাল মলে তাঁর ৪ জুলাইয়ের বক্তব্যের পর দর্শকরা "ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আতশবাজি প্রদর্শনী" প্রত্যক্ষ করবেন। যদিও প্রতিকূল আবহাওয়া ও বজ্রঝড়ের কারণে "স্যালুট টু আমেরিকা" নামক স্বাধীনতা দিবসের এই অনুষ্ঠানটি কিছুটা বিলম্বিত হয়। ট্রাম্পের নির্ধারিত বক্তব্য এক ঘণ্টা পিছিয়ে রাত ১১টায় (ইটি) শুরু হয়েছিল। তবে বিলম্ব সত্ত্বেও পরবর্তী আতশবাজির ঝলকানি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করে নেয়। গিনেস কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, এই প্রদর্শনীতে রেকর্ডসংখ্যক ৮,৪০,৫৩৭টি আতশবাজি ব্যবহার করা হয়েছিল।
যুক্তরষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের জন্য ট্রাম্পের গঠিত আধা-সরকারি অলাভজনক সংস্থা 'ফ্রিডম ২৫০'-এর মুখপাত্র ড্যানিয়েল আলভারেজ এক বিবৃতিতে বলেন, "ন্যাশনাল মল এবং পোটোম্যাক নদীসহ চারপাশের মাইলের পর মাইল এলাকা জুড়ে এই ৪০ মিনিটের চোখধাঁধানো প্রদর্শনী চলে।" গিনেস রেকর্ডের সনদে ফ্রিডম ২৫০-এর পাশাপাশি উত্তর ভার্জিনিয়াভিত্তিক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান 'ইভেন্ট স্ট্র্যাটেজিস ইনকর্পোরেটেড' এবং পেনসিলভানিয়ার নিউ ক্যাসলে প্রধান কার্যালয় অবস্থিত 'পাইরোটেকনিকো ইনকর্পোরেটেড'-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
আলভারেজ আরও বলেন, "এই ঐতিহাসিক প্রদর্শনী পূর্ববর্তী সব বৈশ্বিক রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। আমাদের দেশের আগামী ২৫০ বছরের যাত্রার শুরুতে এটি ঐক্য, সহনশীলতা ও গর্বের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ফ্রিডম ২৫০ লক্ষ লক্ষ আমেরিকানদের কাছে এই মুহূর্তটি পৌঁছে দিতে পেরে সম্মানিত বোধ করছে এবং যারা এটি সম্ভব করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে।"
পাইরোটেকনিকো এবং ফ্রিডম ২৫০-এর মূল লক্ষ্যই ছিল ২০১৬ সালে ফিলিপাইনের 'ইগলেসিয়া নি ক্রিস্টো'র গড়া পূর্ববর্তী বিশ্বরেকর্ডটি ভেঙে দেওয়া। পাইরোটেকনিকো-এর প্রেসিডেন্ট রক্কো ভিটেল কোম্পানির ওয়েবসাইটে লিখেছেন, "আমাদের কর্মীরা তীব্র গরম এবং দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে এমন একটি প্রদর্শনী তৈরি করেছেন যা এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের যোগ্য ছিল। আমরা চেয়েছিলাম মানুষ যেন এটি উপভোগ করে মনে করেন যে তারা জীবনের সেরা আতশবাজি প্রদর্শনীটি দেখেছেন এবং এটি তাদের হৃদয়ে দেশাত্মবোধের এক অনন্য স্মৃতি হিসেবে থেকে যাবে।"
