ইতালি ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) প্রযুক্তিগত পরিচালক হিসেবে নিজের সংক্ষিপ্ত মেয়াদে ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে মুখ খুলেছেন পাওলো মালদিনি। ইতালির দৈনিক করিয়েরে দেল্লা সেরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, এফআইজিসি যদি সত্যিই আন্দ্রেয়া পিরলোকে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ দিতে চাইত, তবে আইনি কোনো জটিলতা বাধা হয়ে দাঁড়াত না। মালদিনির মতে, পিরলোর নিয়োগটি মূলত জনমতের চাপে আটকে গিয়েছিল।
কার্লো আনচেলত্তি এবং পেপ গার্দিওলাকে কোচ হিসেবে পাওয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর মালদিনি তার সাবেক মিলান সতীর্থ পিরলোকে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। বর্তমানে দুবাই ইউনাইটেডের কোচ হিসেবে কর্মরত পিরলোর নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে ইতালির সমর্থক গোষ্ঠী এবং এফআইজিসির ভেতরেই মতবিরোধ দেখা দেয়। এর মূল কারণ ছিল রাশিয়ার বেটিং কোম্পানি ফনবেটের সঙ্গে পিরলোর বৈশ্বিক অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত থাকা। এই সম্পর্ক নৈতিক ও আইনি প্রশ্ন তুলেছিল বলে দাবি করা হয়।
মালদিনি জানান, পিরলোর এই বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিষয়টি তাদের অজানা ছিল। তিনি বলেন, পিরলো তার বেটিং কোম্পানির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে প্রস্তুত ছিলেন। মালদিনির কথায়, পিরলোকে নিয়ে অহেতুক বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে এবং তাকে জাতীয় দলের কোচ হতে বাধা দেওয়ার মতো কোনো আইনি ভিত্তি ছিল না। তিনি মনে করেন, এটি ছিল এফআইজিসি প্রেসিডেন্ট জোভান্নি মালাগোর সিদ্ধান্ত, যার প্রেক্ষিতে মালদিনি তার অবস্থানকে অগ্রহণযোগ্য মনে করে মাত্র ১৭ দিন পরেই পদত্যাগ করেন।
মালদিনি আরও জানান, মালাগোর সঙ্গে তার কথোপকথনের সময় প্রেসিডেন্ট তাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি আর পিরলোকে কোচ হিসেবে দেখতে চান না এবং এখন থেকে কোচ নিয়োগের সিদ্ধান্ত তার নিজের হাতে থাকবে। মালদিনি বলেন, তিনি এবং লিওনার্দো এই ধরনের নিয়ম পরিবর্তন মেনে নিতে পারেননি এবং দায়িত্ব নেওয়ার আগেই পদত্যাগপত্রের সিদ্ধান্ত নেন। মালদিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইতালির যদি সত্যিকারের ইচ্ছা থাকত, তবে কোনো আইনি বাধা পিরলোর নিয়োগ ঠেকাতে পারত না।
মালদিনি বলেন, 'আমার একটি চাকরি ও দায়িত্ব ছিল এবং আমি মনে করেছিলাম এটি মেনে নেওয়া অসম্ভব। আমরা ২৪ ঘণ্টা সময় নিয়েছিলাম এবং তারপর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলাম, এমন একটি চুক্তিতে যা তখনও শুরুই হয়নি। আমি এমনভাবে কাজ করতে অভ্যস্ত যেখানে সবকিছু স্বচ্ছ থাকে।'

