আলবেনিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় শহর ক্রুজার আবাসিক এলাকার দিকে ধেয়ে আসা একটি ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আগুন নেভানোর এই যৌথ তৎপরতায় তুরস্কের তৈরি বিখ্যাত মনুষ্যবিহীন আকাশযান 'বায়রাক্তার টিবি২' (Bayraktar TB2) অংশ নেয়।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আলবেনিয়াজুড়ে বেশ কয়েকটি দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে রাজধানী তিরানার নিকটবর্তী পার্বত্য শহর ক্রুজা ও এর আশেপাশের বনাঞ্চলে লাগা আগুনটি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। আগুন নেভাতে ক্রুজায় রাতভর অভিযান চালানো হয়। এতে সশস্ত্র বাহিনী, বেসামরিক জরুরি সাড়াদান ইউনিট এবং ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ৩০০ কর্মী অংশ নেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্গম এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আকাশপথেও বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এই কার্যক্রমে জাতীয় বেসামরিক সুরক্ষা সংস্থার ২১টি ফায়ার ইঞ্জিন, তিনটি হেলিকপ্টার, একটি বায়রাক্তার টিবি২ ড্রোন এবং দুটি থার্মাল-ইমেজিং ড্রোন ব্যবহার করা হয়। আগুনের তীব্রতা বাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে কিছু বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে জানান, দাবানলে কেবল একটি গুদাম পুড়ে গেছে এবং কোনো নাগরিক আহত হননি। তিনি আরও বলেন, "মাউন্ট ক্রুজায় বাতাসের প্রতিকূলতার কারণে রাতভর আকাশপথে আগুন নেভানোর সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হয়েছে। আমাদের দমকলকর্মী, সামরিক বাহিনী এবং পুলিশ সদস্যরা বীরত্ব ও অসাধারণ পেশাদারিত্বের সাথে লড়াই করে একটি ভয়াবহ ট্র্যাজেডি এড়িয়েছেন, যা এই তীব্র গরমের মাসগুলোতে অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে ঘটেছে।"
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেসফোর্ট লামাল্লারি সশরীরে উপস্থিত থেকে এই আগুন নেভানোর কাজ তদারকি করেন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, এই আগুন কোনো প্রাকৃতিক কারণে লাগেনি, বরং মানুষের অসচেতনতা বা কর্মকাণ্ডের কারণে লেগেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে। তবে আলবেনিয়ার ইনস্টিটিউট অব জিওলজিক্যাল সায়েন্সেসের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির কিছু শহরে এখনও দাবানলের 'উচ্চ' ঝুঁকি রয়ে গেছে।
এই অভিযানে ব্যবহৃত বায়রাক্তার টিবি২ ড্রোনটি তুরস্কের বায়কার টেকনোলজিস সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করেছে। ২০২৫ সালে বিমান চালনার ইতিহাসে প্রথম ড্রোন হিসেবে এটি সফলভাবে স্বায়ত্তশাসিত স্পিন রিকভারি কৌশল প্রদর্শন করে ইতিহাস গড়েছিল। একটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের সময় ড্রোনটিকে ইচ্ছে করে স্পিন বা ঘূর্ণন অবস্থায় ফেলা হয়েছিল, কিন্তু নিজস্ব উন্নত নিয়ন্ত্রণ অ্যালগরিদমের সাহায্যে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভারসাম্য ফিরে পেয়ে স্বাভাবিকভাবে উড়তে সক্ষম হয়। এর আগে কোনো মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমান এই জটিল কৌশলটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারেনি।

