কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ৭.৪ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১১১ জন নিহত এবং ৮৭ জন আহত হয়েছেন। এই দুর্যোগের ফলে বিভিন্ন শহরে ভবন ধসে পড়েছে, হাসপাতাল ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং দেশজুড়ে বড় আকারের উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
ভূমিকম্পের ভয়াবহতার প্রেক্ষিতে কলম্বিয়া সরকার দেশটিতে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা করেছে। জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে। ভূমিকম্পের এই কম্পন পুরো কলম্বিয়া ছাড়াও প্রতিবেশী দেশ ইকুয়েডর, পানামা এবং ভেনেজুয়েলাতেও অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের ফলে কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে ব্যাপক কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। অনেক ভবন আংশিক ধসে পড়েছে এবং রাস্তাঘাট ধ্বংসস্তূপে ঢেকে গেছে। ধর্মীয় স্থাপনাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে একটি গির্জার সামনের অংশ ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। মানিজালেস শহরে কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে এবং কয়েক ডজন ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। শহরটির ক্যাথেড্রালের একটি প্রধান মিনারও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতেও আঘাত হেনেছে এই ভূমিকম্প। রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের দ্রুত ভবনের বাইরে সরিয়ে আনা হয়েছে। জরুরি কর্মীরা খোলা আকাশের নিচে রোগীদের সেবা দেওয়া অব্যাহত রেখেছেন। উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কংক্রিটের স্তূপ ও ভাঙা কাঠামোর ভেতর দিয়ে উদ্ধারকাজ চলছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কলম্বিয়া সরকার জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা করেছে, যাতে জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত করা যায়। প্রেসিডেন্ট আবেল্যার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা জানিয়েছেন, তিনি সরাসরি এই উদ্ধার অভিযানের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং একটি সমন্বিত কমান্ড পোস্ট স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “রাষ্ট্র উপস্থিত আছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।”
পেরেইরা, মানিজালেস, কিবদো, আরমেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনলাভেন্তুরা শহরের বিমানবন্দরগুলো কাঠামোগত পরীক্ষার জন্য সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এছাড়া কালির আলফোনসো বনিলা আরাগন বিমানবন্দরেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

