সিরিয়ার একটি আদালত ক্ষমতাচ্যুত একনায়ক বাশার আল-আসাদকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। দেশটির গৃহযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের দায়ে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তার শাসন ব্যবস্থার পতনের পর আসাদ সপরিবারে দামেস্ক থেকে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে পালিয়ে যান। এর মাধ্যমে তার পরিবারের ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের ক্ষমতার অবসান ঘটে। সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসাদ শাসনামলের কর্মকর্তাদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আসাদ ২০০০ সালে তার বাবার মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন। তিনি হাফেজ আল-আসাদের দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন এবং ১৯৯৪ সালে তার ভাই বাসিল সড়ক দুর্ঘটনায় মারা না যাওয়া পর্যন্ত তিনি সিরিয়ার শাসক হওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিলেন না।
আদালতে আসাদের পাশাপাশি তার ভাই ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মাহের আল-আসাদসহ ছয়জন সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মাহের আল-আসাদ সেনাবাহিনীর এলিট চতুর্থ ডিভিশনের দায়িত্বে ছিলেন এবং তিনি আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন বাহিনীর ১১ দিনের দ্রুত অভিযানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মস্কোতে পালিয়ে যান। এছাড়া, আসাদের চাচাতো ভাই এবং দক্ষিণ সিরিয়ার দেরা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তার সাবেক প্রধান আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার রায়ের সময় তাকে কারাবন্দীর পোশাকে আদালতের খাঁচায় হাজির করা হয়। দেরা প্রদেশটি আসাদবিরোধী আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত। ২০১১ সালের মার্চ মাসে দেরা শহরে সরকারবিরোধী গ্রাফিতি লেখার অভিযোগে একদল কিশোরকে আটক ও নির্যাতনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে গৃহযুদ্ধে রূপ নেয় এবং কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়।
আতেফ নাজিবকে হত্যা, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইচ্ছাকৃত হত্যা এবং মৃত্যুর কারণ হওয়ার মতো নির্যাতনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তদের তালিকায় সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফাহদ আল-ফরেইজও রয়েছেন। রায়ের পর আদালতের বাইরে শত শত মানুষ তাদের হারানো স্বজনদের ছবি নিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সন্তুষ্টি জানান। প্রসিকিউটর দলের সদস্য নুহা আল-মাসরি, যিনি ২০১১ সালের দেরা হত্যাকাণ্ডে তার ভাইকে হারিয়েছিলেন, তিনি বলেন যে ১৫ বছর ধরে তারা এই ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন।
সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ মস্কো থেকে বাশার আল-আসাদ ও তার ভাই মাহের আল-আসাদের প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করতে পারবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। গত ডিসেম্বরে আসাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। বর্তমানে নতুন সরকার আসাদ আমলের অনেক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্যকে আটক করলেও আসাদসহ শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা রাশিয়ার আশ্রয়ে থাকায় তাদের নাগাল পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

