তীব্র দাবদাহের সময় শিশুদের শরীরের তাপমাত্রা বড়দের তুলনায় অনেক দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা তাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। মানব মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশ শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বজায় রাখতে কাজ করে, তবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি বিকশিত থাকে না। ফলে তাদের ঘাম কম হয় এবং তৃষ্ণা পাওয়ার বিষয়টিও তারা সবসময় বুঝতে পারে না।
শিশুদের দেহের আয়তন ও ভরের অনুপাত বড়দের চেয়ে ভিন্ন হওয়ায় তারা দ্রুত তাপ শোষণ করে এবং তাদের বিপাকীয় তাপ উৎপাদনের হারও বেশি। এই শারীরিক পার্থক্যের কারণে শিশুদের শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ে এবং বেশিক্ষণ উচ্চ তাপমাত্রায় থেকে যায়। দীর্ঘসময় রোদে থাকার ফলে শিশুদের হিট এক্সহসশন বা তাপজনিত অবসাদ হতে পারে। এ সময় অতিরিক্ত ঘাম, ফ্যাকাশে ও আঠালো ত্বক, মাথা ঘোরা, খিটখিটে মেজাজ বা তীব্র তৃষ্ণার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। অবস্থা গুরুতর হলে বমি বা মাংসপেশিতে টান লাগার মতো সমস্যাও হতে পারে।
ব্রিটিশ রেড ক্রসের তথ্য অনুযায়ী, হিটস্ট্রোক একটি জরুরি চিকিৎসা অবস্থা, যা ঘটে যখন শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়ে যায় এবং মস্তিষ্কের থার্মোস্ট্যাট অকার্যকর হয়ে পড়ে। এ সময় ত্বক গরম ও শুষ্ক হয়ে যায়, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি এবং অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, এমনকি শিশু অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এটি সাডেন ইনফ্যান্ট ডেথ সিনড্রোম (সিডস)-এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
ইউনিভার্সিটি অফ ওরচেস্টারের তাপ শারীরবৃত্ত বিশেষজ্ঞ ড. জেসিকা মি শিশুদের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত পানি পান করানো, ছায়া ও শীতল স্থানে বিশ্রাম নেওয়া এবং ঢিলেঢালা হালকা পোশাক পরানোর পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া শিশুদের শরীরের কোনো অস্বাভাবিকতা বা অবসাদ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আবাসন কর্মীদের গবেষণায় দেখা গেছে, জুন মাসে যুক্তরাজ্যের দাবদাহের সময় প্রতি ছয়জন শিশুর মধ্যে একজন অতিরিক্ত গরম বাড়িতে বসবাস করছিল, যার ফলে অনেক অভিভাবক শিশুদের শীতল রাখতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হোটেল রুম বুক করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
নবজাতকদের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) নবজাতকের ঘর ১৬ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখার পরামর্শ দেয়। খুব গরম আবহাওয়ায় তাদের অতিরিক্ত বুকের দুধ বা ফর্মুলা প্রয়োজন হতে পারে। শিশুদের ঘুমন্ত অবস্থায় প্র্যামে রাখা উচিত নয়, কারণ সেখানে বাতাস চলাচল ব্যাহত হয়ে তাপমাত্রা বাড়তে পারে। ফ্যান সরাসরি শিশুর ওপর না চালিয়ে বাতাস চলাচলের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে এবং গরম বেশি হলে ভেজা কাপড় দিয়ে শিশুর শরীর মুছে দেওয়া যেতে পারে, তবে নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে যেন তারা অতিরিক্ত ঠান্ডা না হয়ে যায়।

