প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা ১০ বিলিয়ন ডলারের (৭.৪ বিলিয়ন পাউন্ড) মানহানি মামলার মোকাবিলা করতে বিবিসি এবার তার পরিবারের সদস্যদের তলব করার আবেদন জানিয়েছে। গত মে মাসে বিবিসির আইনি প্রতিনিধিরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, মেয়ে ইভানকা ট্রাম্প এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারকে তলব করার চেষ্টা করেন।
বিবিসি এই মামলাটির মুখোমুখি হয়েছে প্যানোরামা অনুষ্ঠানের একটি পর্বের কারণে, যেখানে ২০২১ সালের ক্যাপিটল দাঙ্গার আগে দেওয়া ট্রাম্পের ভাষণের দুটি ভিন্ন অংশ সম্পাদনা করে জোড়া লাগানো হয়েছিল। বিবিসি এর আগে এই সম্পাদনার জন্য ক্ষমা চাইলেও এটিকে মানহানির ভিত্তি হিসেবে মানতে নারাজ। মামলার নথি অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের কমিটির সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে বিবিসি দাবি করেছে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং ইভানকা ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন যখন তাদের বাবা বক্তৃতাটি সংশোধন ও প্রদান করেছিলেন। এছাড়া জ্যারেড কুশনার ট্রাম্পের জন্য সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে একটি খসড়া বিবৃতি তৈরি করেছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের কাছে বিবিসি আবেদন করেছে যেন ইমেইল ও সার্টিফাইড মেইলের মাধ্যমে এই তলব নোটিশ পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়, কারণ সরাসরি (হাতে হাতে) তলব করার চেষ্টাগুলো সফল হয়নি। এর আগে, ফ্লোরিডায় ইভানকা ট্রাম্প ও জ্যারেড কুশনারের বাড়িতে তলবপত্র নিয়ে গেলে পুলিশ চেকপয়েন্টে তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং সিক্রেট সার্ভিস জানায় যে তারা এই নথিপত্র গ্রহণ করতে পারবে না। একইভাবে, নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের জন্য তলবপত্র নিয়ে গেলে সেখান থেকেও জানানো হয় যে, যারা এই ধরনের নথি গ্রহণ করেন তারা দুপুরের খাবারের বিরতিতে আছেন অথবা আইনি বিভাগ সেদিন উপস্থিত নেই।
গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প ফ্লোরিডায় বিবিসি এবং তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিবিসি স্টুডিওস প্রোডাকশনস ও বিবিসি স্টুডিওস ডিস্ট্রিবিউশনের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, বিবিসি ৬ জানুয়ারি ২০২১-এ ক্যাপিটলের বাইরে দেওয়া তার ভাষণটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিকৃত করেছে। বিবিসি অবশ্য আদালতকে মামলাটি খারিজ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছে যে, এই অনুষ্ঠানটি মানহানির আইনি মানদণ্ড পূরণ করে না এবং এটি মার্কিন প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধও ছিল না।
ইতিমধ্যে ট্রাম্প বিবিসি স্টুডিওসকে মামলার তালিকা থেকে বাদ দিতে সম্মত হয়েছেন, কারণ বিবিসি যুক্তি দিয়েছিল যে এই কোম্পানিটি তথ্যচিত্রটির নির্মাণ বা প্রযোজনায় কোনো ভূমিকা রাখেনি। এছাড়া এ মাসের শুরুতে বিচারক ট্রাম্পের অনুরোধে বিবিসির কাছে আর্থিক নথিপত্র হস্তান্তরের সময়সীমা পিছিয়ে দিয়েছেন। বিবিসি ট্রাম্পের ব্যবসায়িক স্বার্থে ক্ষতির দাবিটি যাচাই করতে তার কিছু আর্থিক রেকর্ড চেয়েছিল, তবে ট্রাম্পের আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে এসব নথি প্রকাশ করলে তার 'অপূরণীয় ক্ষতি' হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই মামলার বিচার কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

