লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যেই সেখানে কয়েক দিনব্যাপী সম্ভাব্য তীব্র সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলের গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
রোববার সন্ধ্যায় ইসরায়েলের ‘চ্যানেল ১২’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, লেবাননে ‘কয়েক দিন ধরে লড়াই চালানোর প্রস্তুতি’ নিচ্ছে তাদের সেনাবাহিনী। হিজবুল্লাহর বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে আরও বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননের জাবাল আলী আল-তাহের এলাকায় হিজবুল্লাহর ডজনখানেক সদস্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
এদিকে, গত রাতেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এই হামলার মধ্যেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে লেবানন, সিরিয়া এবং গাজার দখলকৃত এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের অবস্থান বজায় রাখবে।
বৈরুতের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী লেবাননের ভূখণ্ড থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও তা লঙ্ঘন করে এই হামলা চালানো হচ্ছে। অধিকৃত এলাকাগুলো থেকে সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহারে আন্তর্জাতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল তা উপেক্ষা করছে। ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশ কয়েক দশক ধরে এবং কিছু অংশ ২০২৩-২০২৪ সালের যুদ্ধের পর থেকে দখল করে রেখেছে। চলমান এই অভিযানে ইসরায়েলি সেনারা লেবাননের অভ্যন্তরে ১০ কিলোমিটারের (৬ মাইল) বেশি পথ অগ্রসর হয়েছে।
লেবানন সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৪,৩৪৬ জন নিহত এবং ১২,৩০১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা চলাকালীন সীমান্ত জুড়ে এই উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

