কানাডা থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে যেকোনো ধরনের গণভোট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন কুইবেকের বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের শীর্ষ নেতা। পার্টি কুইবেকয়ারের (পিকিউ) নেতা পল সেন্ট-পিয়ের প্লামন্ডন মঙ্গলবার এই ঘোষণা দেন।
বর্তমানে কুইবেকের বিরোধী দলে থাকা পার্টি কুইবেকয়ার আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেন্ট-পিয়ের প্লামন্ডন জানান, তার দল ক্ষমতায় এলে প্রথম মেয়াদেই স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের আয়োজন করবে। তবে ২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে না।
কুইবেকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য শান্ত এবং স্পষ্ট বিতর্কের প্রয়োজন বলে মনে করেন এই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা। তিনি বলেন, "আমেরিকান রাজনীতির অস্থিরতা, একজন অননুমেয় প্রেসিডেন্টের আকস্মিক আচরণ কিংবা কোনো ভীতি প্রদর্শনমূলক প্রচারণার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। মার্কিন প্রশাসনের এই অননুমেয় আচরণ আমাদের প্রক্রিয়া এবং একটি জাতি হিসেবে আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সুস্থ বিতর্কের পরিবেশকে ব্যাহত করবে।"
কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে ঘোষণা করার বিষয়ে ট্রাম্পের বারবার আলোচনা এবং শুল্ক আরোপের হুমকি কুইবেকের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলেছে। ট্রাম্পের এসব বক্তব্যের ফলে কানাডীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদী মনোভাব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কুইবেকের অনেক ফরাসিভাষী নাগরিক এখন কানাডার অংশ হিসেবে থাকার মধ্যেই বেশি নিরাপত্তা দেখছেন।
কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার এই মনোভাব আলবার্টা প্রদেশেও দেখা গেছে। আগামী ১৯ অক্টোবর সেখানকার ভোটাররা সিদ্ধান্ত নেবেন যে প্রদেশটি কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার জন্য কোনো বাধ্যতামূলক গণভোটের দিকে এগোবে কি না। তবে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি এবং ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে কুইবেক ও আলবার্টা—উভয় প্রদেশেই বিচ্ছিন্নতাবাদী গণভোটের পক্ষে জনমত গঠন করা এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
এর আগে কুইবেকের ভোটাররা দুইবার সার্বভৌমত্বের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। যার মধ্যে সর্বশেষ ১৯৯৫ সালের গণভোটে অত্যন্ত সামান্য ব্যবধানে স্বাধীনতার প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায়। প্রায় ৯১ লাখ মানুষের প্রদেশ কুইবেকের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ ফরাসিভাষী। এই প্রদেশটি ইতিমধ্যেই ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে থাকে। কুইবেক নিজস্ব আয়কর আদায় করে, ফরাসিভাষীদের অগ্রাধিকার দিয়ে নিজস্ব অভিবাসন নীতি পরিচালনা করে এবং ইংরেজি ভাষার চেয়ে ফরাসি ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আইন রয়েছে।
১৯৬০-এর দশকে রেনে লেভেস্কের নেতৃত্বে পার্টি কুইবেকয়ার গঠিত হয়েছিল, যা দীর্ঘদিন ধরে কুইবেককে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। দলটি এর আগে বেশ কয়েকবার কুইবেকের ক্ষমতায় থাকলেও সব সময় গণভোট আয়োজন করেনি। ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দলটির সর্বশেষ শাসনকালেও কোনো গণভোট অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৭৬০-এর দশকে ব্রিটিশরা যখন তৎকালীন 'নিউ ফ্রান্স' দখল করে নেয়, তখন থেকেই কুইবেকের নিজস্ব পরিচয় ও মর্যাদা নিয়ে বিতর্ক চলে আসছে।

