বিখ্যাত মার্কিন ব্লুজ-রক ব্যান্ড ‘জেডজেড টপ’ (ZZ Top)-এর ড্রামার ফ্রাঙ্ক বিয়ার্ড আর নেই। টেক্সাসের রিচমন্ডে নিজ খামারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ব্যান্ডের এক প্রতিনিধি নিশ্চিত করেছেন যে, গত ১৭ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তিনি মারা যান।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে চলতি আগস্টের শুরুর দিকে ব্যান্ডের ‘দ্য বিগ ওয়ান টুর’ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন বিয়ার্ড। তাঁর জায়গায় ড্রামার মাইকেল মোনাহান স্থলাভিষিক্ত হন। এর আগে ২০১৫ সালেও গোড়ালি ও পায়ের সমস্যার কারণে সাময়িকভাবে সফর থেকে বিরতি নিয়েছিলেন তিনি। বিয়ার্ডের প্রয়াণে ব্যান্ডটি ১৮ ও ১৯ আগস্টের পূর্বনির্ধারিত শো বাতিল করেছে। আগামী ২২-২৩ আগস্ট অস্টিনের ‘এসিএল লাইভ অ্যাট দ্য মুডি থিয়েটার’-এ পুনরায় সফর শুরু হবে, যা ফ্রাঙ্কের অত্যন্ত প্রিয় একটি ভেন্যু এবং তাঁর দ্বিতীয় বাড়ির মতো ছিল।
মজার ব্যাপার হলো, লম্বা দাড়ি রাখার জন্য বিখ্যাত এই ত্রয়ী ব্যান্ডের একমাত্র সদস্য ফ্রাঙ্ক বিয়ার্ডেরই কোনো বিখ্যাত দাড়ি ছিল না। নামের সাথে ‘বিয়ার্ড’ (যার অর্থ দাড়ি) থাকলেও পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে তিনি কেবল কোঁকড়ানো চুল ও গোঁফ রাখতেন। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও গায়ক-গিটারিস্ট বিলি গিবনস এখন ব্যান্ডের স্বর্ণযুগের একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে রইলেন। ব্যান্ডের অন্য সদস্য, বেসিস্ট ও গায়ক ডাস্টি হিল ২০২১ সালে মারা যান।
১৯৭১ সালে ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবাম ‘জেডজেড টপস ফার্স্ট অ্যালবাম’ থেকেই ড্রাম বাজাতেন ফ্রাঙ্ক বিয়ার্ড। তবে সেই অ্যালবামে এবং তাদের তৃতীয় অ্যালবাম ‘ত্রেস হোমব্রেস’-এ তাঁকে ‘রুবে বিয়ার্ড’ নামে কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছিল। অবশ্য তিনি ব্যান্ডের প্রথম ড্রামার ছিলেন না। ১৯৬৬ সালে বিলি গিবনস এবং ড্রামার ড্যান মিচেল মিলে ‘দ্য মুভিং সাইডওয়াকস’ গঠন করেন এবং ১৯৬৯ সালে ‘ফ্ল্যাশ’ অ্যালবাম প্রকাশ করেন। পরে কিছু পরিবর্তনের পর তাঁরা ‘জেডজেড টপ’ গঠন করেন এবং ড্যান মিচেলকে নিয়ে ১৯৬৯ সালে ‘সল্ট লিক’ গানটি প্রকাশ করেন।
১৯৪৯ সালের ১১ জুন টেক্সাসের ফ্র্যাঙ্কস্টনে জন্মগ্রহণ করেন বিয়ার্ড। জেডজেড টপ গঠনের কিছুদিন পরই তিনি ডাস্টি হিলের সাথে ব্যান্ডে যোগ দেন। এর আগে তাঁরা দুজনে ‘আউটলজ’, ‘সেল্যার ডোয়েলার্স’, ‘ওয়ারলকস’ এবং ‘আমেরিকান ব্লুজ’সহ বেশ কয়েকটি ব্যান্ডে একসাথে বাজিয়েছিলেন। ২০১৯ সালের প্রামাণ্যচিত্র ‘জেডজেড টপ: দ্যাট লিটল ওল ব্যান্ড ফ্রম টেক্সাস’-এ বিয়ার্ড স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্রথম দেখাতেই তিনি গিবনসকে একটি রিহার্সাল স্টুডিওতে নিয়ে যান এবং টানা আট ঘণ্টা জ্যামিং সেশন করেন। রসিকতা করে বিয়ার্ড বলেছিলেন, “আমি স্পিড ড্রাগের প্রভাবে উত্তেজিত ছিলাম এবং গিবনসকে প্রায় জিহ্বা বের হয়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়া পর্যন্ত বাজাতে বাধ্য করেছিলাম।” সেই সাক্ষাৎ নিয়ে গিবনস বলেছিলেন, “সে অত্যন্ত উগ্র ও দৃঢ়তার সাথে বাজিয়েছিল। তখনই আমি সিদ্ধান্ত নিই, ফ্রাঙ্ক বিয়ার্ডই হতে যাচ্ছে জেডজেড টপের নতুন ড্রামার।”
সত্তর ও আশির দশকে ব্লুজ, বুগি ও রকের এক অনন্য মিশ্রণে ‘লা গ্রেঞ্জ’ এবং ‘টুশ’-এর মতো জনপ্রিয় গান দিয়ে চার্ট কাঁপায় এই ত্রয়ী। আশির দশকের শুরুতে তারা কিছুটা মেলোডি যোগ করে ‘চিপ সানগ্লাসেস’ এবং ‘টিউব স্নেক বুগি’র মাধ্যমে মূলধারার শ্রোতাদের কাছে পৌঁছায়। এরপর আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে এমটিভি যুগে ‘এলিমিনেটর’ এবং ‘আফটারবার্নার’ অ্যালবামের ‘গিম্মি অল ইয়োর লাভিং’, ‘শার্প ড্রেসড ম্যান’, ‘লেগস’ এবং ‘রাফ বয়’ গানের মিউজিক ভিডিওর মাধ্যমে তারা বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। ২০০৪ সালে ‘জেডজেড টপ’ ব্যান্ডকে রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
