যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালকদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বা বিপজ্জনক অঙ্গরাজ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে মিসিসিপি। ফেডারেল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অনলাইন টায়ার বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান 'প্রায়োরিটি টায়ার' (Priority Tire) চলতি মাসে একটি নতুন বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। এই গবেষণায় প্রতি ১ লাখ বাসিন্দার বিপরীতে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনার হারের ওপর ভিত্তি করে অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতি ১ লাখ মানুষের বিপরীতে গড়ে ৯.৬টি প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে মিসিসিপিতে এই হার ছিল প্রায় আড়াই গুণ বেশি, অর্থাৎ প্রতি ১ লাখে ২৪.৯টি। ওই বছর অঙ্গরাজ্যটিতে মোট ৭৩২টি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০২২ সালের (৭০৩টি) তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ওয়াইওমিং, যেখানে প্রতি ১ লাখে দুর্ঘটনার হার ২৪.৭ এবং মোট প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৪৪টি। এছাড়া ২০.৭ হার নিয়ে নিউ মেক্সিকো তৃতীয়, ১৯.৫ হার নিয়ে সাউথ ক্যারোলাইনা চতুর্থ এবং ১৯.৪ হার নিয়ে আরকানসাস পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে, বিপরীত চিত্র দেখা গেছে নিউ মেক্সিকো, সাউথ ক্যারোলাইনা ও আরকানসাসে। নিউ মেক্সিকোতে ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ৬ শতাংশ কমে ৪৬৬ থেকে ৪ ৩৭টিতে দাঁড়িয়েছে। সাউথ ক্যারোলাইনায় এই হার কমেছে ৪ শতাংশ এবং আরকানসাসে কমেছে ৬ শতাংশ। তবে ওয়াইওমিংয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার সংখ্যা ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৩৪ থেকে ১৪৪টিতে দাঁড়িয়েছে।
গাড়ি চালকদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ অঙ্গরাজ্য হিসেবে উঠে এসেছে ম্যাসাচুসেটস। সেখানে প্রতি ১ লাখ বাসিন্দার বিপরীতে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার হার মাত্র ৪.৯। এর পরেই রয়েছে নিউ ইয়র্ক, যেখানে এই হার ৫.৭। এছাড়া রোড আইল্যান্ড, নিউ জার্সি এবং হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে এই হার সমান ৬.৫ রেকর্ড করা হয়েছে।
বছরভিত্তিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কিছু অঙ্গরাজ্যে বড় ধরনের তারতম্য দেখা গেছে। রোড আইল্যান্ডে ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপর আইডাহোতে ২৮ শতাংশ এবং আইওয়াতে ১২ শতাংশ দুর্ঘটনা বেড়েছে। বিপরীতে, আলাস্কায় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা কমেছে ২৭ শতাংশ, হাওয়াইতে ২০ শতাংশ এবং ম্যাসাচুসেটসে ২১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
গ্রামীণ সড়কগুলোর কারণে কিছু অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার হার বেশি হতে পারে বলে মনে করেন প্রায়োরিটি টায়ারের প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি চেরনিয়াক। তিনি জানান, গ্রামীণ রাস্তাগুলোতে সাধারণত গতিসীমা বেশি থাকে, রাস্তাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ কম হয় এবং দুর্ঘটনা ঘটলে হাসপাতালগুলোর দূরত্বও অনেক বেশি থাকে। নিরাপদ ভ্রমণের জন্য তিনি চালকদের সিট বেল্ট পরা, ক্লান্ত বোধ করলে বিরতি নেওয়া এবং টায়ারের প্রেশার ও থ্রেড পরীক্ষা করাসহ নিয়মিত গাড়ির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এই গবেষণায় মোট দুর্ঘটনার সংখ্যার চেয়ে জনসংখ্যার অনুপাতে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার হারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
