ডারউইনে ঐতিহাসিক জয়ের পর ম্যাকাই টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। দুই দিনের মধ্যে ম্যাচটি শেষ হয়ে যাওয়ায় হতাশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে এই কন্ডিশনে নিয়মিত না খেললে দলের পক্ষে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, ২৩ বা ২৫ বছর পর পর সফর করলে ক্রিকেটাররা এখানকার কন্ডিশন ও বোলিং আক্রমণের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবেন না।
২০০৩ সালের পর এটাই ছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সফর। দীর্ঘ ২৩ বছরের এই বিরতি দলের পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন শান্ত। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, এই পারফরম্যান্স অত্যন্ত হতাশাজনক। তবে টস একটি বড় ফ্যাক্টর ছিল, বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করা বেশ কঠিন ছিল। তিনটি ইনিংসই কঠিন ছিল, তবে এটি কোনো অজুহাত হতে পারে না; আমরা ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি। তারা দারুণ বোলিং করেছে এবং চ্যালেঞ্জটা ছিল। আমাদের কিছু টেকনিক্যাল জায়গায় উন্নতি করতে হবে।”
দলের ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতার অভাবের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, “আমরা ২৩ বছর পর এখানে এসেছি। এই মানের দলের বিপক্ষে এমন কন্ডিশনে লড়াই করা সহজ নয়। যদি আমরা নিয়মিত এখানে আসতে পারি, তবে ক্রিকেটাররা এখানকার খেলা সম্পর্কে ধারণা পাবে। অস্ট্রেলিয়ায় খেলার অভিজ্ঞতা তাদের বাড়বে।” তিনি আরও যোগ করেন, “দলের প্রায় ৯০ শতাংশ ক্রিকেটারই এখানে আগে খেলেনি। তারা জানে না কীভাবে এই কন্ডিশন এবং এই বোলিং আক্রমণের সাথে মানিয়ে নিতে হয়। আমার অনুরোধ থাকবে, আমরা এখানে নিয়মিত খেলতে চাই, ২৩ বা ২৫ বছর পর নয়।”
এই বড় হারের মধ্যেও বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য একটি সুখবর এসেছে। ডারউইনে প্রথম টেস্টে ঐতিহাসিক জয়ের সুবাদে আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে তিন ধাপ এগিয়ে ৯ নম্বর থেকে ৬ নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। এটি টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিং। এছাড়া ৯ দলের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে চতুর্থ স্থানে রয়েছে তারা।
র্যাঙ্কিংয়ের এই উন্নতিকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন শান্ত। তবে ম্যাকাই টেস্টে ভালো খেলতে না পারার আক্ষেপ তার মনে রয়ে গেছে। তিনি বলেন, “অবশ্যই ৬ নম্বরে ওঠা ভালো খবর। আমি মাত্রই এটি শুনলাম। টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ছয় নম্বরে পৌঁছানো একটি বিশাল অর্জন। তবে এই টেস্টে আমরা যদি আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারতাম, তাহলে এটি আরও আনন্দের হতো।”

