যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় কমার্শিয়াল ট্রাক চালকদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ধরপাকড় অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আই-৪০ এবং আই-১০ মহাসড়কে বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টরা নিয়মিত বিরতিতে ট্রাক থামিয়ে 'নন-ডোমিসাইলড' কমার্শিয়াল ড্রাইভার্স লাইসেন্সধারী অভিবাসীদের আটক করছে। এই ধরপাকড়ের ফলে অনেক চালক তাদের পণ্যবোঝাই ট্রাক মহাসড়কের পাশে ফেলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। তাদের মতে, অনেক অভিবাসী ট্রাক চালকের ইংরেজি ভাষায় পর্যাপ্ত দখল নেই, যা নিরাপত্তা পরিদর্শনের সময় যোগাযোগে বাধা সৃষ্টি করে। মে মাসে ফেডারেল মোটর ক্যারিয়ার সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা যাচাইয়ের নিয়ম আরও কঠোর করেছে। এছাড়া মার্চ মাস থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মে অ-নাগরিকদের জন্য অ-ডোমিসাইলড লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ কেবল এইচ-২এ, এইচ-২বি এবং ই-২ ভিসাধারীদের জন্য সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
তবে আটক হওয়া চালকরা এবং তাদের আইনজীবীরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের মতে, এটি কোনো জননিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি অভিযান। ২৬ বছর বয়সী ভারতীয় ট্রাক চালক নভজোত সিং, যাকে মে মাসে কিংম্যানের কাছে আটক করা হয়েছিল, জানান যে তিনি বৈধ লাইসেন্স ও কাজের অনুমতি নিয়ে ট্রাক চালাচ্ছিলেন। আটক হওয়ার সময় তার ট্রাকে ১ লাখ ডলার মূল্যের ৪০ হাজার পাউন্ড হিমায়িত মুরগি ছিল। তাকে এক মাসেরও বেশি সময় ইলোয় ডিটেনশন সেন্টারে আটকে রাখা হয়।
এশিয়ান ল ককাসের কর্মী জশ রোজেনথাল জানান, মাঝপথে ট্রাক ফেলে যাওয়ার ঘটনা এখন নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মালিককে নতুন চালক পাঠিয়ে সেই পণ্য উদ্ধার করতে হয়, যা ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এছাড়া পাঞ্জাবি শিখ সম্প্রদায়ের চালকদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে সহজে টার্গেট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফেডারেল আদালতে দায়ের করা একটি আইনি নথিতে বলা হয়েছে, শিখ চালকদের লক্ষ্য করে বর্ণবাদী গালিগালাজ ও বস্তু নিক্ষেপের মতো হয়রানির ঘটনা বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরপাকড় প্রায় ২ লাখ অভিবাসী ট্রাক চালককে কর্মসংস্থান থেকে সরিয়ে দিতে পারে। অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডেল রজার্স একে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন সংক্রান্ত নিষ্ঠুর নীতির অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাক চালনার মতো পেশায় যেখানে আমেরিকানরা কাজ করতে আগ্রহী নয়, সেখানে অভিবাসীরা শ্রমের চাহিদা পূরণ করছিলেন।
বর্ডার প্যাট্রোল তাদের 'অপারেশন চেকমেট' অভিযানের মাধ্যমে নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা বললেও, ভুক্তভোগীরা একে জনসমক্ষে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শনের কৌশল হিসেবে দেখছেন। নভজোত সিংয়ের অভিযোগ, বর্ডার প্যাট্রোল তার লাইসেন্স বা কাজের অনুমতির বৈধতা যাচাই না করেই তাকে আটক করেছে। বর্তমানে তিনি জিপিএস মনিটরিং ডিভাইসের অধীনে বাড়িতে সীমাবদ্ধ জীবন কাটাচ্ছেন।

