৭১ বছর বয়সী রবার্ট সলোমন বর্তমানে নিউ ইয়র্কের একটি স্বাধীন বাজারে ফলের ও সবজির সহকারী ক্রেতা হিসেবে কাজ করছেন। মহামারীর সময় অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে তার কাজের সময় কমিয়ে দেওয়া হলে, ২০২২ সালে তিনি সেই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে মুদি দোকানে চাকরির সন্ধান করেন। সকাল ৫.৩০টা বা ৬টার দিকেই শুরু হয় তার কর্মব্যস্ততা। দোকানের কার্পেট বিছানো থেকে শুরু করে পণ্য সাজানো—এসব কাজে তিনি দারুণ আনন্দ খুঁজে পান। বিশেষ করে ৩০টি ভিন্ন পণ্য সাজানো কিংবা ড্যান্ডেলিয়ন গ্রিনস পরিষ্কার করার মতো সাধারণ কাজগুলো তাকে মানসিকভাবে শান্ত রাখে। সলোমন জানান, তার এই কাজের অন্যতম আকর্ষণ হলো এটি একটি বাস্তবমুখী পেশা, যেখানে অলীক কল্পনা বা খ্যাতির মোহ নেই।
সলোমনের কর্মজীবন বেশ বৈচিত্র্যময়। তরুণ বয়সে তিনি ১৭ বছর বয়সে স্কুল ছাড়েন এবং পরবর্তীতে ৪৬ বছর বয়সে ডিগ্রি অর্জন করেন। দীর্ঘ সময় তিনি গৃহ চিত্রকর, হ্যান্ডিম্যান এবং ক্যাবিনেট প্রস্তুতকারক হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়াও তিনি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তি সহায়তা ও বিল্ডিং ব্যবস্থাপনার কাজ করেছেন।
তার বাবা-মা ছিলেন রাশিয়ান অভিবাসী, যারা সবসময় চেয়েছেন সলোমন যেন উচ্চতর প্রযুক্তিগত বা ব্যবস্থাপনার কোনো পদে কাজ করেন। সলোমন জানান, অতীতে তিনি কম্পিউটার প্রোগ্রামার, ইন্টারফেইথ মিনিস্টার বা নার্স প্র্যাকটিশনার হওয়ার চেষ্টা করে বিফল হয়েছিলেন। এমনকি জরুরি চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ (ইএমটি) হওয়ার ইন্টারভিউতে গিয়েও তিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন কেবল একটি নীতিগত অবস্থানের কারণে। তিনি জানান, তার মা চাইতেন না তিনি কোনো ধর্মঘটের লাইন অতিক্রম করেন, যা সেসময় তার ক্যারিয়ারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
শুরুতে মুদি দোকানের শারীরিক পরিশ্রম তার জন্য কিছুটা কষ্টকর থাকলেও এখন তিনি বেশ মানিয়ে নিয়েছেন। সলোমন বলেন, এই কাজের ফলে তার শারীরিক শক্তি বেড়েছে এবং হাঁটুর ব্যথা কমেছে। তিনি অনুভব করেন যে, তার মন এখন অনেক বেশি শান্ত। যদিও তিনি জানেন না কতদিন এই কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন, তবুও তার মতে, এটিই তার জীবনের সেরা চাকরি। তার মায়ের শিক্ষা, যেমন ভালো আপেল চেনা বা লেটুস পরিষ্কার করার দক্ষতা—আজকের এই মুদি দোকানের কাজে দারুণভাবে কাজে লাগছে, যা তাকে তার শেকড়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

